
কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই ভাইয়ের বিরোধ মেটাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। জামানত হিসেবে দেওয়া একটি খালি চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন এক পক্ষ। দীর্ঘ তিন বছর আইনি লড়াই শেষে সেই মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছেন তিনি।
গত ১৮ নভেম্বর কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আবুল মনসুর ছিদ্দিকী সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এই রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার পুকপুকুরিয়া গ্রামের মৃত হাজী আবদু শুক্কুরের দুই ছেলে আবদুল হাকিম ও আবদু রহমান বাবুলের মধ্যে জমিজমা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছালে প্রতিবেশী হিসেবে এগিয়ে আসেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তিনি মধ্যস্থতা করেন।
মিজানুর রহমান জানান, সালিশি বৈঠকে আবদু রহমান বাবুল শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাজি থাকলেও আবদুল হাকিম জামানত দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিজানুর নিজের নামীয় ইসলামী ব্যাংকের একটি খালি চেক এবং আবদু রহমান বাবুলের একটি খালি স্ট্যাম্প আবদুল হাকিমের কাছে জমা দেন। পরে বিরোধ মিটে গেলে স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হলেও মিজানুরের চেকটি আটকে রাখেন হাকিম।
অভিযোগ রয়েছে, ওই চেক ফেরত না দিয়ে তাতে ১০ লাখ টাকার অঙ্ক বসিয়ে ব্যাংক থেকে ডিজঅনার করান আবদুল হাকিম। এরপর ব্যবসায়িক লেনদেনের কথা বলে ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন।
মিজানুর রহমানের আইনজীবী রাজিব মাহমুদ বলেন, মামলার এজাহারে বাদী আবদুল হাকিম উল্লেখ করেছিলেন, আসামি জিম্মাদার হিসেবে চেকটি দিয়েছেন। কিন্তু সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তিনি সুর পাল্টে দাবি করেন, ব্যবসায়িক লেনদেন বাবদ চেকটি দেওয়া হয়েছে। অথচ সাক্ষীরা আদালতে বলেছেন, বাদী ও আসামির মধ্যে কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। দুই ভাইয়ের বিরোধ মেটাতেই চেকটি দেওয়া হয়েছিল।
আইনজীবী আরও জানান, মামলাটি কক্সবাজার যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে বদলি হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ফলে আদালত আসামি মিজানুর রহমানকে বেকসুর খালাস দেন।
মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেয়ে মিজানুর রহমান বলেন, দুই ভাইয়ের বিরোধ মেটাতে উপকার করতে গিয়েছিলাম। অথচ মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে তিন বছর হয়রানি করা হলো। এতদিন তাকে (আবদুল হাকিম) পরহেজগার জানলেও আসলে তিনি একজন প্রতারক।