শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

চকরিয়া-পেকুয়ায় ভোটের লড়াই: ‘হেভিওয়েট’ সালাহউদ্দিনের বিপরীতে অধ্যাপক মাইমুল

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ৮:৩২ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাইমুল আহসান খান। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে তিনি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

একদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজ্ঞ ড. মাইমুল—এ দুই প্রার্থীকে ঘিরে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হলে এই আসনে সালাহউদ্দিন আহমদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৮০ সালে ভর্তি হয়ে ১৯৮৪ সালে এলএলবি (সম্মান) ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী ড. মাইমুল আহসান খান ১৯৯০ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং ২০০৭ সালে পূর্ণ অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। তিনি আইন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) আইন অনুষদের ডিন হিসেবে কর্মরত।

এনসিপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ড. মাইমুল আহসান খান তেহরানের ইমাম সাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতীকী আদালতের বিচারকদের একজন ছিলেন। ওই আদালতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনে সমর্থনের অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০১২ সালে আইআইই-স্কলার রেসকিউ ফান্ড তাকে বিশ্বের নিগৃহীত হওয়া অন্যতম একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

মনোনয়নপত্রের আবেদনে অধ্যাপক মাইমুল জানিয়েছেন, তিনি পূর্বে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না।

চাঁদপুরের বাসিন্দা ড. মাইমুল আহসান খান শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের নির্বাচনী মাঠে থাকবেন কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে শক্তিশালী প্রার্থী সালাহউদ্দিনের বিপরীতে তার প্রার্থিতা ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আবদুল্লাহ আল ফারুকও ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।