
চট্টগ্রাম শহর থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পটিয়া সরকারি কলেজকে একটি বাস উপহার দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৬ বছর ধরে বাসটি গ্যারেজবন্দি হয়ে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে বাসটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাসটির গায়ে ‘প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপহার’ লেখা থাকায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর নির্দেশে বাসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে এটি আর রাস্তায় নামেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের পূর্ব গেইটের গ্যারেজের ভেতরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বাসটি। চোরের উপদ্রব ঠেকাতে গ্যারেজের দরজায় স্থায়ী কংক্রিট দেয়াল তুলে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে বাসটি একপ্রকার ‘বন্দি’ অবস্থায় রয়েছে। গ্যারেজের ছাউনিও ভেঙে পড়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গাজী মু. শাহজাহান জুয়েলের সুপারিশে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বাসটি উপহার দেওয়া হয়। বর্তমানে পটিয়া সরকারি কলেজে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এলেও তাদের জন্য নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই।
গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাওয়াল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম শহর থেকে তাকে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কলেজের নিজস্ব বাস থাকলে ভাড়া বাবদ অনেক টাকা সাশ্রয় হতো।
লোহাগাড়া থেকে আসা গণিত চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাহাব উদ্দীন শিহাব বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক বাসের ব্যবস্থা থাকলে যাতায়াত অনেক সহজ হতো।
পটিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা গাজী মনির বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান জুয়েলের অনুরোধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাসটি উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের ইশারায় বাসটি গ্যারেজবন্দি করা হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বাসটিতে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউছুপ আলী বলেন, তিনি যোগদানের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় বাসটি পেয়েছেন। বর্তমানে এটি মেরামতের অযোগ্য। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এটি বিক্রি বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয় জানতে চাইলে তারা বিষয়টি জানাবেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে বিআরটিএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা ভাড়ার অংক বেশি দাবি করায় সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।