রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ফটিকছড়িতে জাল ওয়ারিশ সনদে সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৬:৪৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পালক সন্তানেরা প্রকৃত ওয়ারিশদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আবদুল হালিমের ভাতিজা মোহাম্মদ রাশেদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার জেঠা পূর্ব-ফরহাদাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ কাদেরিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল হালিম ২০২৪ সালের ২৯ মে মারা যান। জীবদ্দশায় তার কোনো ঔরসজাত সন্তান ছিল না। তিনি সাহেদ মোহাম্মদ আরমান ও সাহেদা খানম রুমি নামের দুজনকে পালক হিসেবে লালন-পালন করেন। সাহেদের প্রকৃত বাড়ি রাউজানের ছত্রপাড়ায় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মোহাম্মদ রাশেদ দাবি করেন, ইসলামী ফরায়েজ আইন অনুযায়ী মাওলানা আবদুল হালিমের সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ হলেন তার স্ত্রী রহিমা খাতুন এবং তিন ভাতিজা মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ মোরশেদ ও মিজানুর রহমান। কিন্তু পালক সন্তানেরা সম্পত্তির লোভে গত বছরের ১২ আগস্ট নাজিরহাট পৌরসভা থেকে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করেন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর তারা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আগের সনদটি ভুয়া প্রমাণ হওয়ায় তা বাতিল করে এবং চলতি বছরের ২১ মে প্রকৃত ওয়ারিশদের সনদ প্রদান করে। এছাড়া ভুল তথ্য দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন ওই দুই পালক সন্তানের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য স্থগিত করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

রাশেদ অভিযোগ করে বলেন, আইনের বিধান মতে পালক সন্তানদের সঙ্গে আবদুল হালিমের সম্পত্তির কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তারা প্রভাবশালীদের মাধ্যমে প্রকৃত ওয়ারিশদের হুমকি দিচ্ছে এবং সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তারা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ মোরশেদ ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাহেদ মোহাম্মদ আরমান বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হবে।