শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশের ১ শতাংশ মানুষের হাতেই ২৪ শতাংশ সম্পদ

আয়ের চেয়ে সম্পদের বৈষম্য প্রকট, ১ শতাংশ ধনীর গড় সম্পদ ১০ কোটি টাকা
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২:৪৪ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের মোট সম্পদের ২৪ শতাংশই কুক্ষিগত রয়েছে মাত্র ১ শতাংশ মানুষের হাতে। আর দেশের মোট জাতীয় আয়ের ১৬ শতাংশ যাচ্ছে তাদের পকেটে। প্যারিসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের সদ্য প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট-২০২৬’-এ বাংলাদেশের বৈষম্যের এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মানুষের আয়ের বৈষম্যের চেয়ে সম্পদের বৈষম্য অনেক বেশি প্রকট। গত এক দশকে এই পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর হাতে রয়েছে দেশের মোট সম্পদের প্রায় ৫৮ শতাংশ। এর বিপরীতে জনসংখ্যার নিচের সারির ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ সম্পদ। তাদের ঠিক ওপরের দিকের ৪০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে ৩৭ শতাংশ সম্পদ।

টাকার অঙ্কে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর গড় সম্পদের পরিমাণ ৭ লাখ ২৩ হাজার ২৩৮ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ইউরো ১৪২ টাকা ধরে) প্রায় ১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের গড় সম্পদ মাত্র ১ হাজার ৪২২ ইউরো বা প্রায় ২ লাখ টাকা।

আয়ের ক্ষেত্রেও বৈষম্য উল্লেখযোগ্য। দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ আয়ের মানুষ জাতীয় আয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ উপার্জন করেন। যেখানে নিচের ৫০ শতাংশ মানুষের ভাগে জোটে মাত্র ১৯ শতাংশ আয়। মাঝখানের ৪০ শতাংশ মানুষ পান জাতীয় আয়ের ৪০ শতাংশ।

ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি’র ভিত্তিতে বিশ্বের ৪০টি দেশের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। আয় বৈষম্যের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। তবে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে বৈষম্য কিছুটা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বে আয় ও সম্পদ উভয় বৈষম্যে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রতিবেদনটির বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ বলেন, আয় বৈষম্য বাড়লে সম্পদের বৈষম্য বাড়ে। বাংলাদেশে বৈষম্য যে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে, তা নিশ্চিত। তিনি বলেন, আমরা হা-হুতাশ করছি, কিন্তু বৈষম্য কমাতে পারছি না। এর জন্য শিক্ষার মান উন্নয়ন, ভালো স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো অনেক কম, যা মাত্র ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থায়ী লিঙ্গবৈষম্যের প্রতিফলন। সার্বিকভাবে বাংলাদেশে আয় ও সম্পদ বণ্টন ব্যবস্থা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সুষম বণ্টনের দিকে অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর।