
কক্সবাজারে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ মিস করে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন এক পর্যটক। নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাবি করা ওই ব্যক্তি ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে এই নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ১১ জন পর্যটকের একটি দল সেন্ট মার্টিন যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাটে আসে। কিন্তু জোয়ার-ভাটার হিসাব মেনে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ ছেড়ে দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে জাহাজ কর্তৃপক্ষ ও ঘাটে তদারকির দায়িত্বে থাকা কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও তানজিলা তাসনিমের সঙ্গে তারা বাগবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় ইব্রাহিম নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্যকে ইউএনওকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন। এতে ঘাটে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদরের ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগে কেন জাহাজ ছেড়ে গেছে, তা নিয়ে হট্টগোল শুরু করেন ইব্রাহিম নামের ওই ব্যক্তি। নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাবি করে তিনি পুলিশকে বলেন আমাকে গ্রেপ্তার করতে। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হলেও এভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে বলার এখতিয়ার তার নেই। এ ঘটনার ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে।”
ইউএনও আরও বলেন, “পর্যটকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ওই ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, “বাঁকখালী নদীর জোয়ার-ভাটা বিবেচনা করে জাহাজ ছাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। ওই পর্যটক ইউএনওকে চিনতে না পেরে হয়তো সাধারণ নারী মনে করে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়েছেন। পরে পরিচয় জানার পর তিনি ইউএনওর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের ওই দলটিকে অন্য একটি জাহাজে করে সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ ছাড়ে এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ইউএনওর নেতৃত্বে একটি কমিটি নিয়মিত ঘাট তদারকি করে।