শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

হামলাকারীরা ভারতে গেলে ফেরত পাঠানোর দাবি, হাই কমিশনারকে তলব

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৫:২০ অপরাহ্ন


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো এবং দিল্লির আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য বন্ধের দাবিতে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাকে তলব করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ নিয়ে অন্তত পঞ্চমবারের মতো তলব করা হলো ভারতীয় দূতকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ভারতীয় হাই কমিশনারকে জানান, ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা যাতে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য ভারতের সহযোগিতা কামনা করছে বাংলাদেশ। তারা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ঢাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক শরিফ ওসমান হাদি। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। গুঞ্জন রয়েছে, হামলাকারীরা ভারতে পালিয়ে গেছে।

হাসিনার বক্তব্য ও নির্বাচনী ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ

বৈঠকে দিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত বক্তব্য ও বিবৃতি নিয়েও সরকারের উদ্বেগের বিষয়টি প্রণয় ভার্মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি তার সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচালে প্ররোচিত করছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ভারতে বসে বাংলাদেশের নির্বাচন বানচালে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়াবে ভারত সরকার।

জবাবে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা ভারতের রয়েছে এবং এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে তার দেশ প্রস্তুত।