শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘জিপিএ-৫ মুখ্য নয়, শিক্ষার উদ্দেশ্য হোক নৈতিক মানুষ হওয়া’

গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধা বৃত্তির পুরস্কার পেল ৯০ শিক্ষার্থী
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:৩২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেছেন, শুধুমাত্র জিপিএ-৫ বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে না। শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো একজন ভালো ও নৈতিক মানুষ হওয়া। মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার যে সংযোগ ঘটিয়েছে, তা বর্তমান সমাজ সংস্কারে অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব হল’-এ ১২তম গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধা বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিরি)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে চট্টগ্রাম মহানগর কেন্দ্র-০২ (গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র) থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮১ জন এবং অনলাইনের ৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের নায়েব সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সুফি সভ্যতা বা নৈতিক মানব ধর্মকে ধারণ করে একটি মানবিক সমাজ গঠন করা। এই বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে।

সরওয়ার কামাল ও মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন, চবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মোরশেদুল আলম এবং বৃত্তি পরীক্ষার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও চবির ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরওয়ার। এছাড়া আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মহিউদ্দীন এনায়েত ও মোটিভেশনাল স্পিকার ড. শামসুদ্দীন শিশির বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.)-এর জন্মদ্বিশতবার্ষিকী ও আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ১২০তম ওরশ শরীফ উপলক্ষে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এই বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশের ১৪টি জেলার ৩৩টি কেন্দ্রে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।