শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীকে ‘জুলাই হত্যা’ মামলায় গ্রেপ্তারের আবেদন

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:৫৫ অপরাহ্ন


দুটি জোড়া খুনসহ প্রায় দেড় ডজন মামলার আসামি এবং চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকে জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে চারটি হত্যা মামলায় এই দম্পতি জামিন পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিল।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চান্দগাঁও থানা পুলিশ এই আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করেন। তবে শুনানি না হওয়ায় এখনো কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানে চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় নিহত শহীদ ফজলে রাব্বী হত্যা মামলা এবং নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া খোরশেদ নামে আরও এক আসামিকে ফজলে রাব্বী হত্যায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। বর্তমানে সাজ্জাদ সিলেট কারাগারে এবং তার স্ত্রী তামান্না ফেনী কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে ফজলে রাব্বী হত্যা ও চান্দগাঁও থানার সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের নাম উঠে আসায় এই আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী দম্পতি জামিনে মুক্তি পেলে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

কে এই ‘বুড়ির নাতি’ সাজ্জাদ?

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মো. জামালের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন ও চান্দগাঁও এলাকায় ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে পরিচিত। বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সঙ্গে নামধাম মিলে যাওয়ায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে তিনি এই নামেই পরিচিতি পান।

সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার ও মোহাম্মদ আনিসকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২১ অক্টোবর প্রকাশ্যে দিবালোকে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে অক্সিজেন মোড়ে পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

চলতি বছরের (২০২৫) ১৫ মার্চ রাজধানীর একটি অভিজাত শপিং মল থেকে গ্রেপ্তার হন সাজ্জাদ। তার গ্রেপ্তারের পর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেন স্ত্রী তামান্না শারমিন। অভিযোগ রয়েছে, সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতে ২৯ মার্চ রাতে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুনসহ অন্তত তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটায় তার সহযোগীরা। এছাড়া ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় আরেক সন্ত্রাসী ‘ঢাকাইয়্যা আকবর’কে।

সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগ চলাকালে সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলাকে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার ঘটনাতেও সাজ্জাদের নাম উঠে আসে। এছাড়া রাউজানে অন্তত সাতজন ছাত্রদল ও যুবদল কর্মী হত্যায় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।