
গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে কিশোর-তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাত্রা শুরু করেছে কৃত্রিম টার্ফের খেলার মাঠ ‘উৎসব স্পোর্টস জোন’।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার বারৈয়ারহাট সংলগ্ন এলাকায় ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে নতুন এই টার্ফের উদ্বোধন করা হয়। ডিজিটাল আসক্তি ও মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখার প্রত্যয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী আয়োজনে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাব একাদশকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘উৎসব স্পোর্টস জোন’ একাদশ। শত শত দর্শক করতালিতে মুখর করে তোলে পুরো আয়োজন।
খেলা শুরুর ১৭ মিনিটের মাথায় উৎসব স্পোর্টস জোন একাদশের পক্ষে একটি লম্বা শট গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শকরা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আয়োজক দলটি।
ম্যাচ শুরুর আগে সাংবাদিক নেতা এস এম আক্কাছ বলেন, “জাতির সুস্থতা, আনন্দ ও গৌরবে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। ক্রীড়াই তারুণ্য, ক্রীড়াই শক্তি। এই টার্ফ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ফটিকছড়ির ক্রীড়াঙ্গন একধাপ এগিয়ে গেল।”
উৎসব স্পোর্টস জোনের অন্যতম ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “আমরা খেলার মাধ্যমে সবাইকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে চাই। এখানে ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য খেলার অনুশীলনের সুযোগ থাকবে। এছাড়া বয়স্কদের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে রাখা হয়েছে।”
ক্রীড়ামোদী শাহাজাদা সৈয়দ মো. ডালিম বলেন, “আকারে ছোট হলেও এ ধরনের মাঠে নানান সুযোগ-সুবিধা থাকায় নতুন প্রজন্মের কাছে তা জনপ্রিয় হচ্ছে। কেউ চাইলে ভাড়ায় নিয়ে খেলতে পারবেন, আবার জিমও করতে পারবেন।”
বিজয়ী ‘উৎসব স্পোর্টস জোন’ দলের হয়ে মাঠে নৈপুণ্য দেখান ডা. রাশেল, পিবিআই আজমগীর, জিয়াউদ্দিন, ডালিম, সাজিব, তানভীর, হোসাইন চৌধুরী, রেজাউল করিম, নওশাদ, মো. সোহেল, শহীদুল ফরহাদ, কাজী আতাউল্লাহ, এমদাদ, মহিম, রিগেল, সৈয়দ শাকিল, অনুপম ও মো. আলাউদ্দিন।
অন্যদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের হয়ে খেলায় অংশ নিয়ে দর্শক মাতান এস এম আক্কাছ, প্রদীপ চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, ইকবাল হোসেন মঞ্জু, সোলায়মান আকাশ, সালাহউদ্দিন জিকু, জিপন উদ্দিন, ওবায়দুল আকবর রুবেল, ইউসুফ আরফাত, আবু মনছুর, মো. সেলিম, মো. সাইফুদ্দিন, কামরুল সবুজ ও আবছার নূরী।