শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

স্ত্রীর টাকায় সীমান্তে পালান শুটার ফয়সাল, সিঙ্গাপুরে ‘সংকটাপন্ন’ হাদি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২:২১ অপরাহ্ন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ সীমান্তে পৌঁছানোর আগে স্ত্রীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পালানোর সময় তিনি একাধিক গাড়ি পরিবর্তন করেছিলেন।

এদিকে হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের গুলিসহ ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে র‍্যাব। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পালানোর রুট ও টাকার উৎস তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ঢাকা থেকে প্রথমে ধামরাই যান। সেখান থেকে একটি প্রাইভেটকারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান। ওই গাড়ির চালকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফয়সালের স্ত্রী ৩০ হাজার টাকা পাঠান। পরে ফয়সাল ময়মনসিংহের একটি দোকান থেকে সেই টাকা ক্যাশ আউট করেন। ঢাকা থেকে সীমান্ত এলাকায় যেতে তারা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, “হত্যাচেষ্টায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতার আনতে কাজ চলছে।”

অস্ত্রের ম্যাগাজিন উদ্ধার ও নেপথ্যের কারিগর র‍্যাব সূত্র নিশ্চিত করেছে, গতকাল প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের বোনের বাসার পাশের একটি স্থান থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের গুলিসহ ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সন্দেহভাজন আরও দু-তিনজনকে শনাক্ত করেছে। এছাড়া হাদির ওপর হামলার নেপথ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক এক শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত সহকারী এবং এক সন্ত্রাসীর নাম এসেছে। তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

‘দাঁতভাঙ্গা কবির’ রিমান্ডে, মোটরসাইকেল রহস্য হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সন্দেহভাজন ফয়সালের সহযোগী মো. কবির ওরফে ‘দাঁতভাঙ্গা কবির’কে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।

আদালতে কবির নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “ফয়সালের মোটরসাইকেল আমি চালাতাম। ১৮ দিন আগে ফয়সাল আমাকে বলেন, তিনি হাদির সঙ্গে ব্যবসা করেন ও নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করেন। আমি যেতে না চাইলেও তিনি আমাকে নিয়ে যান।”

মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার আব্দুল হান্নান দাবি করেছিলেন তিনি বাইকটি বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে কবির আদালতে জানান, বাইকটি তার আইডি কার্ড দিয়ে কেনা হলেও এর প্রকৃত মালিক তার বন্ধু মাইনুল ইসলাম শুভ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুজ্জামান কবিরের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হাদির শারীরিক অবস্থা সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, হাদির অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তার আরও একটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে শারীরিক দুর্বলতার কারণে এখনই তা করা সম্ভব হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।