শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘টাকা ছড়িয়ে’ মুক্তির ঘোষণা দেওয়া তামান্না ও সাজ্জাদের জামিন আটকালেন আপিল বিভাগ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৯:৪৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং তার স্ত্রী শারমিন তামান্নার জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সাতটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া তাদের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এই আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী। তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হকের বরাত দিয়ে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিতের জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী গত সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ আদালত থেকে সাতটি হত্যা মামলায় জামিন পান। এর মধ্যে চান্দগাঁও থানায় চারটি ও পাঁচলাইশ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা। গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের জামিননামা পৌঁছালে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং এরপরই রাষ্ট্রপক্ষ নড়েচড়ে বসে।

পুলিশ জানায়, ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রী শারমিন তামান্নার বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যাসহ আটটি মামলা চলমান। শারমিন তামান্না বর্তমানে ফেনী কারাগারে বন্দি আছেন।

গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্নাকে ‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে’ স্বামীকে জামিনে মুক্ত করার কথা বলতে শোনা যায়। ওই ভিডিও ভাইরালের পর পুলিশ তামান্নাকেও গ্রেপ্তার করে।

কারাগারে থেকেও বাহিনী সক্রিয়

পুলিশের দাবি, সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা কমেনি। তার অনুপস্থিতিতে মোহাম্মদ রায়হান, মোবারক হোসেন, বোরহান উদ্দিন ও নাজিম বাহিনীটি পরিচালনা করছেন। এই বাহিনীর অন্তত অর্ধশত সদস্য খুন ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত।

এর প্রমাণ মেলে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগ চলাকালে। সেখানে একটি গলিতে গুলির ঘটনায় এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন এবং সরোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরোয়ারকে গুলি করা হয়।

এছাড়া সর্বশেষ গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতা আহমদ রেজার বাসার সামনে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। প্রতিবেশীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’-এর সহযোগীরা এই গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ছোট সাজ্জাদ এই বড় সাজ্জাদেরই অনুসারী হিসেবে পরিচিত।