শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

২০ ভরি স্বর্ণ চুরি করে কিনলেন রয়্যাল এনফিল্ড, অবশেষে ডিবির জালে

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৬:২৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম নগরের আসকার দিঘির পাড় এলাকায় একটি বাসায় চুরির ঘটনায় জড়িত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগ। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে চুরির টাকায় কেনা একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরের টাইগারপাস, নিউমার্কেট ও আনোয়ারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মো. জসিম, নওগাঁ সদরের মোস্তাকিন হোসেন মিঠু, পটিয়া উপজেলার সেতু দাস প্রকাশ সালাহ উদ্দিন এবং ফেনী সদরের মো. ইসমাঈল।

পুলিশ জানায়, গত ৫ ডিসেম্বর কোতোয়ালী থানাধীন আসকার দিঘির পূর্ব পাড়ের রিচ নাহার বিল্ডিংয়ের সপ্তম তলায় ভুক্তভোগী পূরবী বিশ্বাসের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসা থেকে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৬ ডিসেম্বর পূরবী বিশ্বাস বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তিন-চারজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে।

অভিযানের শুরুতে সোমবার সকালে নগরের টাইগারপাস এলাকা থেকে মো. জসিম ও মোস্তাকিন হোসেন মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা চুরির পরিকল্পনাকারী হিসেবে সহযোগী মো. সালাউদ্দিনের নাম প্রকাশ করেন। পরে জসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাসা থেকে চুরি যাওয়া এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে আনোয়ারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য সেতু দাস প্রকাশ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সালাহ উদ্দিন চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং জানান, চোরাই স্বর্ণ বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি নতুন রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল কিনেছেন। পরে তাঁর দেখানো মতে মোটরসাইকেলটি এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সালাহ উদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিউমার্কেট এলাকা থেকে মো. ইসমাঈল নামের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইসমাঈল পুলিশকে জানান, চোরাই স্বর্ণ টেরিবাজার এলাকার একটি দোকানে বিক্রি করা হয়েছে। পুলিশ ওই দোকানে অভিযানে গেলে দোকানদার বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যান। পলাতক দোকানদারকে গ্রেপ্তার ও চোরাই স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।