
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের হাটহাজারী অংশে যত্রতত্র বিপজ্জনকভাবে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কের ওপর বালু ও ইটের স্তূপ রাখায় যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মেখল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জান আলী চৌধুরী বাড়ির পশ্চিম পাশে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিনের বাড়ির রাস্তার মাথায় বিপজ্জনক অবস্থায় নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে।
এছাড়া ইছাপুর খেলোয়াড় সমিতির সামনে, সত্তারঘাটের পশ্চিমে, ইছাপুর ফয়জিয়া বাজারের কয়েকটি স্থানে, ওই বাজারের পূবালী ব্যাংকের সামনে এবং জান আলী চৌধুরী বাড়ির উত্তর পাশে মহাসড়কের ওপর নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ দেখা গেছে। এমনকি খোদ হাটহাজারী পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এবং উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের পূর্বেও একই চিত্র চোখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মেখল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিনের বাড়ির রাস্তার মোড়ে রাখা বালু ও নির্মাণ সামগ্রীর কারণেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন মো. হাসান তারেক (২৪)। একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গিয়াস চেয়ারম্যানের বাড়ির মো. আলীর একমাত্র ছেলে তারেক বিয়ের মাত্র চার দিন আগে ওই দুর্ঘটনায় নিহত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও কিছু মানুষ বিবেকহীনভাবে রাস্তার ওপর সামগ্রী স্তূপ করে রেখেছেন, যা নতুন করে প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ব্যাপারে তাঁরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উল্লাহ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।
অন্যদিকে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন বিষয়টি নজরে আনা হলে জানান, তিনি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।