
বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) কেবলা কাবার ৯৭তম পবিত্র খোশরোজ শরীফ (১০ পৌষ) উপলক্ষ্যে আশেকানে হক ভাণ্ডারী, শোকর-এ মওলা মনজিলের উদ্যোগে ইছালে সওয়াব, খতমে কোরআন, শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শোকর-এ মওলা মনজিল মিলনায়তনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মাইজভাণ্ডারী দর্শন ও বিশ্বঅলির জীবনী শীর্ষক আলোচনা, মিলাদে মোস্তফা, তাওয়াল্লাদে গাউসিয়া ও জিকিরে সেমা মাহফিল।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. এম. নেওয়াজ শাহরিয়ার আসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও গবেষক মোহাম্মদ শাহেদ আলী চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. মনিরুল হাসান, একই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. পঞ্চানন দাশগুপ্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শাহেদ আলী চৌধুরী বলেন, মানবমুক্তির জন্য হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী প্রদত্ত সপ্তকর্ম পদ্ধতি একটি অনবদ্য পন্থা। বিশ্বঅলি শাহানশাহ হক ভাণ্ডারী (ক.) ও মওলা হুজুর মাইজভাণ্ডারী (ম.জি.আ.) এর আনুগত্যপূর্ণ অনুসরণেই মানবজীবন সফল হবে। অনুষ্ঠানে বিশ্বঅলির জীবনী নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন মোহাম্মদ সাজীদুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, শাহানশাহ হক ভাণ্ডারী ও মওলা হুজুর মাইজভাণ্ডারীর অনুপম সত্তায় আল্লাহ ও রাসুল (দ.) এর আদর্শিক গুণাবলি সর্বোত্তমভাবে প্রকাশ পায়।
অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী খোশরোজ শরীফ উপলক্ষ্যে এসজেডএইচএম ট্রাস্টের দেশব্যাপী মানবিক কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. এস. এম. মনিরুল হাসান বলেন, সর্বধর্ম ও মতের মানুষদের কাছে টেনে ইসলামের সৌন্দর্য বিকাশ করার মাইজভাণ্ডারী এই পদ্ধতি অবশ্যই প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। নাতে রাসুল (দ.) পরিবেশন করেন মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ইরফান এবং মাইজভাণ্ডারী গান পরিবেশন করেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন সাগর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ সজীবুল হাসান চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আজম আলোকিত সমাজ গঠনে আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের অনুসরণে সবাইকে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে ৪২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সামগ্রী ও ৫ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া উপস্থিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের মাঝে বেলায়তে মোতলাকা, জীবনী শরিফ, শোকর ম্যাগাজিনসহ মাইজভাণ্ডারী দর্শনের বিভিন্ন কিতাবাদি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। এরপর মোহাম্মদ গোলাম মওলা রনির পরিচালনায় জিকিরে সেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরিশেষে মিলাদ মাহফিল ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় প্রধান অতিথির আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা, কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।