শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

নেতাকর্মীদের খরচ দিচ্ছেন শামসুল হক, খোঁজ নেই মোতাহেরুলের

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১:০৬ অপরাহ্ন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর থেকেই লাপাত্তা চট্টগ্রামের পটিয়ার সাবেক দুই সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী ও মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পটিয়া থানায় দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলার আসামি তারা। পুলিশ বলছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার দাবি, দুই নেতার একজন দেশ ছেড়ে দুবাই পাড়ি জমিয়েছেন, আর অন্যজন রয়েছেন খোদ ঢাকাতেই।

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে পটিয়া আসন থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শামসুল হক চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। অন্যদিকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে মাত্র আট মাস দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। ওই নির্বাচনে শামসুল হক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর থেকেই এলাকা ছাড়া এই দুই নেতা। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, সরকার পতনের কয়েক দিনের মধ্যেই ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে নিয়ে দেশত্যাগ করেন শামসুল হক চৌধুরী। বর্তমানে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অবস্থান করছেন। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানান, বিদেশে অবস্থান করলেও শামসুল হক চৌধুরী পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভার নিজস্ব বলয়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি প্রতি মাসে বাছাইকৃত নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতাও পাঠাচ্ছেন।

অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর ওপর ক্ষুব্ধ তার অনুসারীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণাও দেখা গেছে।

গত ৩ ও ৪ আগস্ট পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, গুলি এবং বিএনপি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পটিয়া থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে এই দুই সাবেক সংসদ সদস্য ছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বহু নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তবে এজাহারনামীয় আসামিরা এখনো অধরা।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটিয়ার অন্যতম সমন্বয়ক কাসেম আল নাহিয়ান বলেন, সাবেক এমপি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বেই পটিয়ায় ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে। তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা যেখানেই থাকুক, দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

পটিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমদ বলেন, সাবেক দুই সংসদ সদস্যের অবস্থানের বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা গেলেই আইনের আওতায় আনা হবে।