
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের। তাঁর মতে, সন্ত্রাসীদের দমানো না গেলে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী—উভয়ের জন্যই নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালক ও মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ডা. মো. আবু নাছের বলেন, প্রশাসন সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের পক্ষ থেকে সাধুবাদ থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চিরুনি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও যদি সন্ত্রাসীদের বিষয়ে কেউ সুপারিশ করতে যায়, তাকেও যেন ছাড় দেওয়া না হয়। আমরা অন্যায়কারীকে কোনোভাবেই সহ্য করব না। আমরা আমাদের সকল জনশক্তি, কর্মী, সাধারণ জনতা এবং ভোটারদের ঢাল হিসেবে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ভূমিকা রাখব।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর তাগাদা দিয়েছি। যেসব সন্ত্রাসী ও মাস্তান দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় আছে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।
কালুরঘাট সেতুর দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তঃকোন্দলের কারণে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ বিলম্বিত হয়েছে। গত ১৪ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেছিলেন। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। রাজনীতিবিদরা সেতু নিয়ে কথা বলতে বলতে জনগণের কাছে ‘প্রতারক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো অন্তঃকোন্দল নেই দাবি করে তিনি দ্রুত সেতুর কাজ শুরুর আহ্বান জানান।
এছাড়া বেকারত্ব সমস্যাকে এলাকার প্রধান সংকট হিসেবে উল্লেখ করে ডা. আবু নাছের বলেন, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে উপলব্ধি করেছি, বর্তমানে বেকারত্ব সমস্যা সবচেয়ে বড় সমস্যা, যা আমাকে খুব পীড়া দেয়। নির্বাচিত হলে আমার আসল লক্ষ্য হবে এই সমস্যার সমাধান করা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সনাতন ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আমার সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সকলকে নিয়ে আমরা সুন্দর একটি উদাহরণ স্থাপন করতে চাই।