শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বান্দরবান: বিএনপির সাচিংপ্রু জেরীর বিপরীতে জোটের প্রার্থী কে?

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৫৩ অপরাহ্ন


কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী আসন ভাগাভাগির সমঝোতা হলেও বান্দরবান (৩০০ নম্বর) আসনে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। জোটের এই দুই শরিক দলের দুজন প্রার্থীই সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত এখানে জোটের একক প্রার্থী কে থাকবেন, তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

সোমবার বিকেলে বান্দরবান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনির কাছে পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবুল কালাম এবং এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন।

এর আগে গত রোববার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), কর্নেল (অব.) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) নির্বাচনী আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। কিন্তু সেই সমঝোতার পরও বান্দরবানে দুই দলের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবুল কালাম দাবি করেন, তিনি দলীয় নির্দেশনা পেয়েই প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, এনসিপির সঙ্গে আসন নিয়ে সমঝোতার বিষয়ে আমি কেন্দ্রের নির্দেশনা চেয়েছিলাম। সম্মতিসূচক নির্দেশনা পাওয়ার পরই জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। পরবর্তী সময়ে দল যেভাবে নির্দেশনা দেবে, আমি সেভাবেই কাজ করব।

অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন দাবি করেন, আসন নিয়ে সমঝোতার পর বান্দরবান আসনটি এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে। তাই এখানে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করার কথা ছিল না। তিনি ধারণা করছেন, মনোনয়নপত্র বাছাইতে কোনো ভুলভ্রান্তির আশঙ্কায় কৌশলগত কারণে হয়তো জামায়াত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখের আগে উভয় দলের বোঝাপড়ায় জামায়াত প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম জানান, বান্দরবান আসনে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত পাঁচটি রাজনৈতিক দলের মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এই আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) আগেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পাঁচ প্রার্থী হলেন—বিএনপির সাচিংপ্রু জেরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আবু জাফর মো. ওয়ালিউল্লাহ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (হাতপাখা), জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আবুল কালাম (দাঁড়িপাল্লা) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন (শাপলা কলি)।