শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হলো জুলাই অভ্যুত্থান, বাদ পড়ল ৭ মার্চের ভাষণ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২ জানুয়ারী ২০২৬ | ১১:৪৮ অপরাহ্ন


নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেলেও মাধ্যমিক স্তরের সব বই এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মাধ্যমিকের সব বইয়ের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত এসব বই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণি এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের নানা জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে থাকা ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিটিও মুছে ফেলা হয়েছে।

২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বইয়ের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন একটি পাঠ যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।

তবে একই বইয়ের ১৬ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত তথ্যে পরিবর্তন এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবার স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। অথচ ২০২৫ সালের বইয়ে এই অংশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে’ কথাটি লেখা ছিল। অর্থাৎ নতুন বইয়ে এখানে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বই থেকেও বাদ পড়েছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, শুধু অষ্টম শ্রেণি নয়, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি প্রথমপত্র বই থেকেও এই ভাষণটি তুলে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অষ্টম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’। আগের বছরের বইয়ে এই অধ্যায়ে ৭ মার্চের ভাষণের বর্ণনাসহ অন্তত ১৫ বার ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের উল্লেখ ছিল। কিন্তু নতুন সংস্করণে ১৩ বার শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকলেও ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি নেই।

তবে শ্রেণি কাজ-৩ অংশে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, শ্রেণিতে সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে, এ সম্পর্কে তোমার মতামত লেখ। এই অধ্যায়ে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বর্ণনাও যুক্ত করা হয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়েও জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে। বইটির প্রথম অধ্যায়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণআন্দোলন’। আগের বছরের বইয়ে এই অধ্যায়ে আগরতলা মামলা প্রসঙ্গে লেখা ছিল, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা করে সরকার। কিন্তু চলতি বছরের বইয়ে একই পাঠ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বইটির ১৩ ও ১৪ নম্বর পৃষ্ঠাসহ কিছু জায়গায় এবং ছবির ক্যাপশনে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি রাখা হয়েছে।

বই পরিমার্জনের বিষয়ে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বই পরিমার্জনের সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি তুলে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ছাড়া শুধু উপাধি হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উল্লেখ ছিল, সেখান থেকে শব্দটি বাদ দিতে বলা হয়। সেই নির্দেশনা মেনেই বইগুলোতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।