শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রাউজানে ধানের শীষ কার? গিয়াস ও খোন্দকার দুজনেই বৈধ, বিএনপিতে চরম উৎকণ্ঠা

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ৮:১১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই হেভিওয়েট নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই দুই নেতা হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকার এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (পদস্থগিত) ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। তবে এক আসনে একই দলের দুই প্রভাবশালী নেতার প্রার্থিতা টিকে থাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী—উভয়েই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে দলের মনোনয়ন বোর্ড দুজনকেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বা চিঠি প্রদান করে। প্রথমে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা ও দলীয় চিঠি দেওয়া হলে তাঁর অনুসারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

কিন্তু এর পরপরই নাটকীয়ভাবে গোলাম আকবর খোন্দকারকেও ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হয়। ফলে খোন্দকার সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন জাগে—শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের আসল মাঝি কে হচ্ছেন?

রাউজানের রাজনীতিতে এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ১৯৯৬ সাল থেকে দলের মনোনয়ন ও নেতৃত্ব নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই বিরোধ আরও সহিংস রূপ নেয়। এলাকার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ১৭ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।

এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির কারণে দলের হাইকমান্ড উভয়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাইস চেয়ারম্যান পদটি স্থগিত করা হয় এবং গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর পুরনো উত্তাপ আবার ফিরে এসেছে। শনিবার যাচাই-বাছাইয়ে দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রের দিকে। বিএনপি হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত কাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন বা প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন রাউজানের সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীরা।

তৃণমূলের দাবি, দ্রুত এই ধুম্রজালের অবসান ঘটিয়ে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হোক, অন্যথায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।