শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

জুলাইয়ে ‘গুলি চালানো’ ওসি-এসপিদের তালিকা করে ট্রাইব্যুনালে মামলার ঘোষণা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৪ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০:১৬ অপরাহ্ন


২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলে তাঁদের নাম উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতাকে শহীদ করা হয়েছে, সেসব থানার ওসি ও এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, কোনো প্রকার টালবাহানা নয়, এবার অ্যাকশন হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দায়মুক্তি অধ্যাদেশের বিষয়ে রিফাত রশিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি যাতে অধ্যাদেশ জারি করেন, সে জন্য আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে চাপ প্রয়োগ করা হবে এবং সেই কাজ আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথম দাবিতে বলা হয়, হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে শুধু জামিন নয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। এ বিষয়ে রিফাত রশিদ বলেন, মাহদী হাসানকে একটি মামলায় জামিন দেওয়া হলেও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি, তাই তাঁদের প্রথম দফা দাবি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তাঁদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে তাঁদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের মুখে একপর্যায়ে সরকারপতনের অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে বিচার কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।