
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চেকপোস্টে জব্দ করা প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শকসহ ১০ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে নয়জন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এবং একজন কক্সবাজার জেলা পুলিশের সদস্য। রোববার (৪ জানুয়ারি) পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ তাদের বরখাস্তের আদেশ দেন।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন সরকার, এসআই মো. আমির হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই জিউর রহমান, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান, কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না এবং কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভ। এর মধ্যে কনস্টেবল সৌরভ কক্সবাজারের এক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের গানম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া অভিযুক্ত এসআই আমির ও এএসআই সাদ্দামকে ঘটনার পর সিএমপির কোতোয়ালী থানায় বদলি করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে এসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে বাকলিয়া থানার একটি টহল দল নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল। ভোররাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘দেশ ট্রাভেলস’-এর একটি বাস থামানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক আচরণের কারণে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে ব্যাগসহ বাস থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশের পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। সৌরভ নিজেকে পুলিশ সদস্য ও বিচারকের গানম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেন ও সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন সরকারসহ পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সৌরভের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া গেলেও তাঁকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দেওয়া হয়। জব্দ করা ইয়াবাগুলো পুলিশের ওই সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। এরপর সৌরভ কুমিল্লায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা গেছে, ৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৩৬ মিনিট থেকে ১০ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সৌরভের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে কনস্টেবল সৌরভ ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন এবং কার কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁর নামও প্রকাশ করেন। তদন্ত কমিটি রোববার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর হোসেনের বরখাস্তের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ১০ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া সৌরভ যার কাছ থেকে ইয়াবা নিয়েছিলেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের একটি আদালত বিষয়টি স্বপ্রণোদিত হয়ে আমলে নিয়েছেন। আদালত আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে সিএমপির উপ-কমিশনারকে (দক্ষিণ) এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশের আরেকটি কমিটিও সমান্তরালভাবে কাজ করছে।