শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ছোট ভাই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, বড় ভাই আ.লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিল জনতা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৫ জানুয়ারী ২০২৬ | ১১:৪২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নাশকতা মামলার আসামি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রামের বটতলী বাজার এলাকায় এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কদমরসুল এলাকায় অভিযানে যায়। নাশকতা মামলার আসামি জিয়াউল হক চৌধুরীকে পুলিশ আটক করলে মুহূর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় নারী-পুরুষসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং চারপাশ থেকে পুলিশকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার বাধার মুখে পুলিশি হেফাজত থেকে আসামি জিয়াউল হক চৌধুরী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ মো. সাইফুল্লাহ অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান চৌধুরীর ছেলে। তবে এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাবের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা দাবি করেন, জিয়াউল হক চৌধুরীর ছোট ভাই আরিফুর রহমান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

এ বিষয়ে জানতে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দীনকে ফোন করা হলে তিনি আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন, তবে বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ঘটনাস্থলে অবস্থানরত বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ মো. সাইফুল্লাহ বলেন, জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশ স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁকে আটকের পর জনতা ছিনিয়ে নেয়। যারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ায় সহযোগিতা করেছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি।