শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

এলপিজি ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও ১৩০৬ টাকায় গ্যাস পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ৬:২২ অপরাহ্ন


সারা দেশে এলপিজি বিপণন ও সরবরাহে ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে এলপি গ্যাস ব‍্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা তিনটি মূল দাবি বিইআরসির কাছে তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—সারা দেশে ব্যবসায়ীদের ওপর চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বা চার্জ বৃদ্ধি করা এবং এলপি গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করেন যে, চলমান অভিযানের বিষয়ে তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন এবং ব্যবসায়ীদের কমিশন বা চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবেন। সরবরাহ সংকট প্রসঙ্গে জালাল আহমেদ বলেন, জাহাজ সংকটের কারণে পণ্য আমদানিতে কিছুটা সমস্যা হলেও এলপিজি অপারেটররা (আমদানিকারক) বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সরবরাহের সংকট কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তবে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও গ্যাসের দাম নিয়ে বিইআরসি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো স্পষ্ট। সংগঠনের সভাপতি সেলিম খান দাবি করেন, অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতেই তাঁদের ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। তাই ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ টাকার কম দামে বিক্রি করা তাঁদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অন্যদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, জানুয়ারি মাসের জন্য সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার বেশি দামে গ্যাস বিক্রির কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না।

এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এলপি গ্যাস ব‍্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। ওই ঘোষণার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ ছিল। তবে দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রি স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে। দুপুরের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণায় অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে।