শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

টেকনাফ সীমান্তে ওপার থেকে আসা গুলিতে জেলে বিদ্ধ, আতঙ্কে গ্রামবাসী

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ৩:০০ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালেও সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসা গোলার শব্দে কেঁপে ওঠে হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া এলাকা। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় ওপার থেকে আসা গুলিতে এক বাংলাদেশি জেলে আহত হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ জেলের নাম মো. আলমগীর। ৩১ বছর বয়সী এই যুবক টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় সেখানে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসন গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছে।

উখিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকালে মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। ওই সীমান্তে বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক জেলে নাফ নদীতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।

আলমগীরের ভাই মো. ইউনুছ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সহযোগীকে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আলমগীর। তারা নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমানায় পৌঁছালে মিয়ানমারের দিক থেকে হঠাৎ গুলি ছোড়া হয়। এতে আলমগীরের বাঁ হাতে গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনী এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে আরএসও-এর সংঘর্ষ চলছে। দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে এ সংঘাত ও বিস্ফোরণে সীমান্তের অন্তত আট হাজার মানুষ আতঙ্কে আছেন। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা।

হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবি বিওপির কাছাকাছি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। আগের দিন গুলিতে এক জেলে আহত হওয়ায় স্থানীয়রা খুব ভয়ের মধ্যে আছেন।

টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, শুক্রবার সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গোলার শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়ে বাংলাদেশি এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। তবে কার গুলিতে ওই জেলে আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, সকাল থেকে তার এলাকায় সীমান্তের ওপারে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। জেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সীমান্তের মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। তবে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে বলে জানান তিনি।