
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়া নেতাদের বাগে আনতে ‘কঠোর ও সংযত’—উভয় কৌশলই নিয়েছে বিএনপি। ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমার মধ্যে সরে না দাঁড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
একইসঙ্গে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ১৬টি আসনে স্থানীয় বিএনপির অসহযোগিতা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপট নিয়ে মিত্র দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বোঝাতে অঞ্চলভিত্তিক জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব এবং অবাধ্য হলে পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শেষ পর্যায়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দলীয় সূত্র।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, “প্রতিনিয়ত তাঁদের বোঝানো হচ্ছে। এরপরও না বুঝলে তাঁদের বিরুদ্ধে তো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতেই হবে। এ ছাড়া আর উপায় কী।”
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। বিএনপি হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত—এই সময়ের মধ্যে যারা দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সরে দাঁড়াবেন, তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে সময়সীমা পার হলে অবাধ্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সারা দেশের ১১৭টি আসনে বিএনপির ১১৯ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘদিনের নেতাদের মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শরিকদের ক্ষোভ ও মাঠের বাস্তবতা
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ১৬টি আসন ছেড়ে দিলেও নির্বাচনী মাঠে বাস্তবতা ভিন্ন। শরিক দলের নেতারা অভিযোগ করছেন, অধিকাংশ আসনে তারা স্থানীয় বিএনপির সহযোগিতা পাচ্ছেন না। উল্টো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন জোটের প্রার্থীরা।
বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি জোটের সমর্থনে লড়ছেন।
এছাড়া নড়াইল-২ আসনে এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খাঁন, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সৈয়দ এহসানুল হুদা ও কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির রেদওয়ান আহমেদকে আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এদের মধ্যে কয়েকজন বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম তাদের নিজস্ব প্রতীকে চারটি আসনে লড়ছে।
শরিক দলের নেতারা বলছেন, কেন্দ্র থেকে আসন ছাড় দেওয়া হলেও তৃণমূলে কঠোর নির্দেশনা না থাকায় বিভ্রান্তি কাটছে না। এ পরিস্থিতিতে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি ও প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ চাইছেন মিত্র দলের প্রার্থীরা।