শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যেভাবে বাড়ল গয়ালের সংখ্যা

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বিলুপ্তপ্রায় বনগরু বা গয়ালের বংশবিস্তারে বড় সাফল্য এসেছে। মাত্র দুই জোড়া গয়াল দিয়ে শুরু হওয়া পরিবারটিতে গত ১৩ বছরে যুক্ত হয়েছে আরও ১৮টি নতুন অতিথি। বর্তমানে পার্কের বিশাল বেষ্টনীতে বিচরণ করছে মোট ২২টি গয়াল। পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নিবিড় পরিচর্যার কারণেই বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটির সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পার্ক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার শুরুতে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে কোনো বনগরু বা গয়াল ছিল না। প্রায় ১৩ বছর আগে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ উপহার হিসেবে পার্কে দুটি পুরুষ গয়াল দেয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ এই পুরুষ গয়ালগুলোর সঙ্গিনী হিসেবে দুটি স্ত্রী গয়াল সংগ্রহ করে। এরপর এই চারটি গয়ালকে (দুই জোড়া) একসঙ্গে পার্কের বেষ্টনীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত এক যুগে প্রাকৃতিক নিয়মে বংশবিস্তারের মাধ্যমে এই সংখ্যা এখন ২২টিতে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বাইসন’ বা বনগরু নামে পরিচিত এই প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘বস ফ্রন্টালিস’ (Bos frontalis)। দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে গয়াল এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের প্রজনন সক্ষমতা বেড়েছে।

সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গয়াল মূলত তৃণভোজী প্রাণী এবং এরা হাতির সঙ্গে সহাবস্থান করতে পছন্দ করে। গহিন বনের যেখানে ছোট ছোট ঝোপ ও ডালপালা রয়েছে, তেমন জায়গা এদের বেশ পছন্দ। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে।

তিনি আরও বলেন, পার্কের গহিন জঙ্গলের ফলমূল ও ঘাস খাওয়ার পাশাপাশি গয়ালগুলোকে সকাল-বিকেলে বিভিন্ন সবজি সরবরাহ করা হয়। গয়াল বছরে একবার একটি করে বাচ্চা প্রসব করে এবং এদের গড় আয়ু সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর।

চকরিয়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জ কর্মকর্তা) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, দেশের বনাঞ্চলে গয়াল যখন বিলুপ্তির পথে, তখন সাফারি পার্কে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিবিড় পরিচর্যার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। গরু প্রজাতির প্রাণী হওয়ায় এদের জন্য খুব বেশি বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না; বনের লতাপাতা ও ঘাস খেয়েই এরা বেড়ে ওঠে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, সাফারি পার্কের প্রতিটি প্রাণীর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এবং বংশবিস্তারের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে ভেটেরিনারি হাসপাতালের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করায় পার্কে গয়ালের মতো অন্যান্য প্রাণীরও বংশবিস্তার ব্যাপক হারে বেড়েছে।