শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

আনোয়ারায় ২০ হাজারে সরকারি ফিল্টার, জনস্বাস্থ্যের প্রকৌশলী থাকেন ‘লাপাত্তা’

১১ বছর একই স্টেশনে প্রকৌশলী প্রিয়াংকা চাকমা, কর্মচারীদের পকেটে ঘুষের টাকা!
জিন্নাত আয়ুব | প্রকাশিতঃ ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | ২:৩৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দপ্তরটি যেন অভিভাবকহীন এক রাজত্ব। খোদ সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়াংকা চাকমার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত অফিস করেন না। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি আর তদারকির অভাবকে পুঁজি করে দপ্তরের কর্মচারীরা খুলে বসেছেন দুর্নীতির পসরা। ভুয়া নাম ব্যবহার করে সরকারি ফিল্টার বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকায়, যার ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে প্রকাশ্যে।

একই কর্মস্থলে ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রিয়াংকা চাকমা দাপ্তরিক কাজেও অধরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতায় উপজেলার জনস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে।

সরেজমিনে পরপর দুই দিন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে গিয়েও প্রকৌশলী প্রিয়াংকা চাকমার দেখা মেলেনি। তার কক্ষটি তালাবদ্ধ কিংবা ফাঁকা পড়ে থাকে। অফিস প্রধানের এই অনুপস্থিতি নিয়ে দপ্তরের কর্মচারীদের অজুহাতেরও শেষ নেই। অফিস সহকারী মো. শাহজাহান বলেন, ম্যাডাম অফিসে নেই, আমাদের রূপন স্যারের বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়েছেন।

এর আগেও একাধিকবার তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি—এমন প্রশ্নে শাহজাহানের অকপট স্বীকারোক্তি, ম্যাডাম একটু ঝামেলায় থাকেন। এর আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ছিলেন না। তবে ম্যাডাম না থাকলেও আমরা অফিস চালিয়ে নিই।

দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তার এই ‘লাপাত্তা’ থাকার সুযোগেই অধস্তনরা জড়িয়েছেন অনিয়মে। সেবাগ্রহীতা সেজে দপ্তরের তালিকাভুক্ত পাইপ মিস্ত্রি মো. এনামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরকারি সম্পদ বিক্রির চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দেন। এনাম জানান, সরকারি আর্সেনিক ফিল্টারগুলোর প্রকৃত মূল্য ৫০-৫৫ হাজার টাকা হলেও তিনি তা মাত্র ২০ হাজার টাকায় ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন।

সরকারি সম্পদ কীভাবে বাইরে বিক্রি করা সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে এনাম নিজের কারসাজির কৌশল ফাঁস করেন। তিনি বলেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) বসিয়েছে, এমন এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করে এটি বের করে দেব। এ কারণেই ২০ হাজার টাকা নিচ্ছি।

টাকার ভাগ শুধু তার পকেটে যায় না জানিয়ে এনাম বলেন, এই টাকা আমি একা নেব না, অফিসের সবাইকে দিতে হবে। প্রকৌশলী এই ভাগের অংশ পান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সরাসরি দিই না, অফিসের অন্যদের দিলে তারাই সেটা পৌঁছে দেয়। তাই ২০ হাজার টাকার কমে পারব না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পুনরায় দপ্তরে গিয়েও প্রিয়াংকা চাকমাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পুরো বিষয়টি নজরে আনা হলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আকতার বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। প্রকৌশলী কেন নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকছেন, সে বিষয়েও কারণ জানতে চাওয়া হবে।