শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

আ.লীগ নেতার বাবার জানাজায় এক কাতারে বিএনপি-জামায়াত-জাপা

চকরিয়ায় সম্প্রীতির নজির
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | ৯:১৩ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরীর বাবার জানাজায় দেখা গেল বিরল রাজনৈতিক সম্প্রীতি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এক কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করলেন জানাজার নামাজ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষানুরাগী মাস্টার সিরাজ আহমদের জানাজা।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা এলাকায় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন মাস্টার সিরাজ আহমদ। তিনি চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিদাতা এবং টানা দশবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তার ছেলে আলমগীর চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভার দুইবারের নির্বাচিত মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

জানাজায় অংশ নিতে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সময়ে উপস্থিত হন ওই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এ এইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ।

জানাজার মাঠে মরহুমের ছেলে মেয়র আলমগীর চৌধুরীর পাশে দাঁড়িয়ে এই তিন দলের নেতাদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার, জামায়াত নেতা হেদায়েত উল্লাহ, পৌর জামায়াতের আমির আরিফুল কবিরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দলের অসংখ্য নেতাকর্মী।

রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি জানাজায় অংশ নেন চকরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জুবাইদুল হক, সিটি কলেজের অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন, চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মসিউর রহমান আরিফসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তারা।

জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শোকের মুহূর্তে সব দলের নেতাদের এমন উপস্থিতি চকরিয়ার রাজনীতিতে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। উপস্থিত অনেকেই বিষয়টিকে ‘রাজনীতির সৌন্দর্য’ ও ‘শিষ্টাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।