শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

২০ জানুয়ারির মধ্যে না সরলে কঠোর ব্যবস্থা, বিদ্রোহীদের সতর্ক করল বিএনপি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

বিএনপি লোগো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে অবশেষে জট খুলতে শুরু করেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি অনুরোধ ও ভবিষ্যতের আশ্বাসে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। গত এক সপ্তাহ ধরে গুলশান কার্যালয়ে ধারাবাহিক বৈঠকের পর নমনীয় হয়েছেন অনেকেই। তবে ১৭টি আসনের মধ্যে চারটিতে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী, যা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে হাইকমান্ড।

দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, যারা এখনো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের মধ্যে তারা সরে না দাঁড়ালে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চেয়ারম্যানের ডাকে সাড়া, সরে দাঁড়াচ্ছেন যাঁরা

বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন তারেক রহমান। দলের স্বার্থে ত্যাগের বিনিময়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তাদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। এই আলোচনার পর বেশ কয়েকটি জেলার বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান ভিডিও বার্তায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ধানের শীষের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

একইভাবে ভোলা-১ আসনটি জোটের শরিক বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দেওয়ায় সেখান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর। সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

মাদারীপুর-৩ আসনে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ এবং নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদও তারেক রহমানের আহ্বানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সাবেক এমপি আব্দুল খালেক এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মুর্শিদা খাতুনও মাঠ ছেড়েছেন।

হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি শেখ সুজাত এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো হাসান মামুনও হাইকমান্ডের অনুরোধে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনড় অবস্থানে রুমিন ও নীরব

শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ১৭টি আসনের অধিকাংশে সমঝোতা হলেও চারটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখনো অনড়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাইকমান্ডের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি মাঠ ছাড়তে নারাজ।

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে এলাকাবাসীর দোয়ায় ভোটে আছি। এলাকাবাসী আমার সঙ্গে আছে। আশা করছি, নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।”

ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। রোববার তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও তিনি অনড়। সাইফুল আলম নীরব বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি এবং নির্বাচন করব। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া চেয়েছি, তিনি দোয়া করেছেন।”

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়ত নেতা মনির হোসেন কাসেমির বিরুদ্ধে বিএনপির সাবেক দুই নেতা শাহ আলম ও গিয়াসউদ্দিন এখনো ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

শরিকদের জন্য ১৭ আসন

বিএনপি যে ১৭টি আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে সেগুলো হলো—বগুড়া-২ (মাহমুদুর রহমান মান্না), ভোলা-১ (আন্দালিব রহমান পার্থ), সিলেট-৫ (মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব), নীলফামারী-১ (মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী), নারায়ণগঞ্জ-৪ (মনির হোসেন কাসেমী), যশোর-৫ (রশিদ বিন ওয়াক্কাস), নড়াইল-২ (ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ), পটুয়াখালী-৩ (নুরুল হক নুর), ঝিনাইদহ-৪ (রাশেদ খান), ঢাকা-১২ (সাইফুল হক), ঢাকা-১৩ (ববি হাজ্জাজ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (জোনায়েদ সাকি), লক্ষ্মীপুর-১ (শাহাদাত হোসেন সেলিম), কিশোরগঞ্জ-৫ (সৈয়দ এহসানুল হুদা), কুমিল্লা-৭ (রেদোয়ান আহমদ) এবং হবিগঞ্জ-১ (ড. রেজা কিবরিয়া)।

কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আমরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বোঝানো হচ্ছে। তারা আমাদের ত্যাগী নেতাকর্মী। তবে ২০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে দল কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”