শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

কক্সবাজার রেলপথে চকরিয়ার তিন স্টেশনে নেই পুলিশ, সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্ক

ফাঁড়ির দাবিতে রেল মহাপরিচালককে চিঠি
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | ৭:২৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন চালুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও চকরিয়া উপজেলার তিনটি স্টেশনে এখনো বসেনি কোনো রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি। ফলে দিনের বেলা কোনোমতে পার হলেও সন্ধ্যা নামলেই স্টেশনগুলো হয়ে উঠছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য; বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও যাত্রী হয়রানির ঘটনা।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল, হারবাং ও মালুমঘাট স্টেশন ছয়টি উপজেলার যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। কিন্তু ব্যস্ততম এই স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয়রা জানান, রেলওয়ে পুলিশের স্থায়ী কোনো ফাঁড়ি না থাকায় স্টেশন এলাকাগুলো কার্যত অপরাধীদের ডেরায় পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগে রাতের আঁধারে বখাটেদের উৎপাত বাড়ার পাশাপাশি ঘটছে ছিনতাই ও চুরির মতো অপরাধ। স্টেশন কেন্দ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাহারবিল রেলস্টেশনের মাস্টার মো. ফরহাদ চৌধুরী বলেন, “স্টেশনে যাত্রীরা বেশ কিছু নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্টেশনে যাওয়ার পথসহ আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা নেই। তার ওপর রেলওয়ে পুলিশ না থাকায় স্টেশনগুলো বখাটেদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রায়ই যাত্রীদের ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। সার্বিক এই চিত্র উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চকরিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি উঠেছে। এ দাবিতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন সাঈদী আকবর ফয়সাল নামের স্থানীয় এক সংবাদকর্মী।

লিখিত আবেদনে বলা হয়, রেলে যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও পুলিশি নজরদারি না থাকায় স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। জনস্বার্থে দ্রুত স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলে যাত্রীদের স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি রেলওয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।