
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের আজিমনগর উম্মুল আশেকীন মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফজখানায় হেফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের দস্তারে ফজিলত (পাগড়ি) প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসার আবাসিক ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১০ জন শিক্ষার্থীর মাথায় পাগড়ি পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দরবারে গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহসুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (ম.)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী বলেন, “আজ যারা হাফেজে কোরআন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল, তারা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের গর্ব নয়, সমগ্র উম্মাহর গৌরব। কোরআন হিফজ আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত, যার মাধ্যমে তিনি দ্বীনকে সংরক্ষণ করে থাকেন। হিফজ মানে শুধু কোরআন মুখস্থ করা নয়, বরং কোরআনের আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই প্রকৃত সফলতা।”
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের ত্যাগ, ধৈর্য ও আন্তরিকতার ফলেই আজ এই সন্তানরা কোরআনের খাদেম হিসেবে গড়ে উঠেছে।”
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খান বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এভাবে হাফেজে কোরআন গড়ার প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ সরোয়ার আলমগীর।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভান্ডারীর অধ্যক্ষ আবুল কাছেম, সৈয়দ মোরশেদুল আমিন, হাফেজ মুহাম্মদ এরশাদ ও হাফেজ আবুল কালাম। এ সময় বলাই কুমার আচার্য্য, কাজী মোহাম্মদ ইউসুফ, কোষাধ্যক্ষ মকসুদুর রহমান হাসনু, কাজী নিজাম উদ্দীন, মাষ্টার বটন কুমার দে, সৈয়দ সাকলাইন মাহমুদ, ডাক্তার সামিউল করিম, জালাল উদ্দিন, শাফায়াত হোসেন, রাশেদ আলী, হাফেজ মহি উদ্দিন, হাফেজ আবু হানিফ, হাফেজ ইরফানুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ জুনাঈদ হাসান। নাতে রাসূল (দ.) ও মাইজভান্ডারী গজল পরিবেশন করেন মো. সাজ্জাদ হোসেন ও মো. ইসমাঈল হোসেন। মিলাদ-কিয়াম পরিচালনা করেন হাফেজ আবুল কালাম।