রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

হাটহাজারীতে ওরশ নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ ও মামলা, পাল্টা অভিযোগ

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ | ১০:৩০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে খোশাল শাহ (র.) এর ওরশ শরীফ উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলের প্রস্তুতি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওরশ আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মাহামুদাবাদ গ্রামে খোশাল শাহ (র.) এর মাজার এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ১৯ জানুয়ারি মাহামুদাবাদ গ্রামে খোশাল শাহ (র.) এর ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। গত মঙ্গলবার ওরশ উপলক্ষে মাজার সংলগ্ন এলাকায় খুঁটি স্থাপন ও প্রস্তুতির কাজ করতে গেলে অভিযুক্তরা মাজার কমিটির লোকজন ও স্থানীয়দের বাধা দেন। একপর্যায়ে মামলার বাদী আবু আহমেদের ছেলে মো. রুবেলের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তার পকেটে থাকা নগদ ৮ হাজার ১৩০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

রুবেলকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সাহেদুল করিম ও মো. মিরাজকেও মারধর করা হয়, এতে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বাদী আবু আহমেদ জানান, তার ছেলে রুবেল বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং হামলাকারীরা হুমকি দিচ্ছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল মাবুদ, মো. সাহেদুল আমিন শিমুল, রাশেদুল ইসলাম মামুন, মো. তৌহিদুল আলম, মো. তছলিম উদ্দিন প্রকাশ চৈড়ুই, মো. নজরুল ইসলাম, বদিউল আলম, মো. সেলিম উদ্দিন ও মো. জয়নাল আবেদীন মানিক।

পাল্টা অভিযোগ

ওরশ আয়োজন নিয়ে বিরোধের বিষয়ে স্থানীয় আয়োজক জসিম উদ্দিন নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ বছর ধরে মাহাবুব চৌধুরী ও তার ভাতিজা বেলাল উদ্দিন বেলাল একক কর্তৃত্বে প্রশাসন এবং স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্যের ভয় দেখিয়ে এই ওরশের আয়োজন করে আসছিলেন এবং এর মাধ্যমে টাকা নয়ছয় করতেন। এবার মাজারের দায়িত্বে থাকা একটি অংশ ও এলাকাবাসী মিলে ওরশের আয়োজন করতে গেলে মাহাবুব চৌধুরী ও বেলাল উদ্দিন বেলালের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়, যার ফলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

মিথ্যা আসামি করার অভিযোগ

অন্যদিকে, ছোট কাঞ্চনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তিত্ব আবদুল মালেক অভিযোগ করেছেন যে, মামলায় এমন বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে যারা ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, তার ছোট ভাই মামলার দ্বিতীয় আসামি সাহেদুল আমিন শিমুল কর্মক্ষেত্রে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন, তবুও তাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বৃদ্ধ বদিউল আলম এবং প্রবাসী তসলিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। একইভাবে মো. নজরুল ইসলাম শহরে অবস্থান করলেও তাকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও পুলিশের অবস্থান

উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আজম জানান, দুই পক্ষের বিরোধপূর্ণ অবস্থানের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখতে ওরশ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ওরশ উপলক্ষে কোনো ধরনের আয়োজন না করতে উভয় পক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।