
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪৪ হাজার ২২৫ একর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। মাতামুহুরী নদীর দুটি রাবার ড্যাম যথাসময়ে সচল করায় মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। ফলে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সোনালি ফসল বুননে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা।
চাষিরা জানিয়েছেন, বীজতলা তৈরির কাজ শেষে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিক থেকেই জমিতে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সেচ সংকট না থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার ৫৫টি ব্লকের আওতায় মোট ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর বা ৪৪ হাজার ২২৫ একর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষাবাদ কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা কেউ জমিতে শেষবারের মতো মই দিচ্ছেন, আবার কেউ দলবেঁধে চারা রোপণ করছেন। মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা ও বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর ফলে নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ বেড়েছে। নদীর তীরে শ্যালো মেশিন বসিয়ে কৃষকরা সেই পানি চাষের জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার গত নভেম্বরের শুরুতে সরেজমিন পরিদর্শন করে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) রাবার ড্যাম দুটি দ্রুত সচল করার তাগাদা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের তড়িৎ পদক্ষেপে যথাসময়ে ড্যাম দুটি ফুলানো সম্ভব হয়। এতে নদীতে মিঠাপানির আধার সৃষ্টি হওয়ায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।
সরেজমিনে চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকরা, বমু বিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, চিরিংগা, সাহারবিল, বিএমচর, পূর্ব ও পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই চলছে বোরো আবাদের ধুম। কৃষকরা হাইব্রিড ব্রি-ধান ৯২, ৭৪, ৮৭ ও ১০০ জাতের চারা রোপণে বেশি আগ্রহী। এছাড়া উপশী ও স্থানীয় জাতের ধানও চাষ হচ্ছে।
সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকার কৃষক আমির হামজা জানান, গতবারের মতো এবারও তিনি ২ একর জমিতে বোরো চাষ করছেন। এবারই প্রথম বিএডিসি’র সেচ স্কিমের মাধ্যমে পানি সুবিধা পাচ্ছেন। ১২ দিন আগে জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করেছেন এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন।
অন্যদিকে বরইতলী গোবিন্দপুর এলাকার কৃষক রুহুল আমিন জানান, শুকনো মৌসুমে গ্রামের ছড়াখালে পানি কমে যাওয়ায় সেচ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই তারা কয়েকজন কৃষক মিলে ছড়াখালে মাটির বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণ করে শ্যালো মেশিনে চাষাবাদ করছেন। এতে প্রতি কানি (৪০ শতক) জমিতে তাদের ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা সেচ খরচ গুণতে হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, চাষের আগে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগী কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে বিনামূল্যে সার ও ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই শতভাগ জমিতে রোপণ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রাবার ড্যামের কারণে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষাবাদ ও ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।