রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

সাতকানিয়ায় মারছা বাসের ধাক্কায় পরীক্ষার্থী আহত, ১ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ৪:০০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় কারীনা কালাম ঐশি (১৫) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। এই ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সাতকানিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত কারীনা কালাম ঐশি সাতকানিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের প্রবাসী আবু কালামের মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে স্কুলের সামনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ঐশি। এ সময় চট্টগ্রামগামী মারছা পরিবহনের একটি বেপরোয়া গতির বাস (চট্টমেট্টো-ব ১১-১১৭৬) তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অল কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।

সহপাঠী আহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাতকানিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে রাস্তায় গাছ ফেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান পারভেজ, সাতকানিয়া থানা পুলিশ এবং দোহাজারী হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মারছা পরিবহনের বাসগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। তাদের প্রধান দাবি—অবিলম্বে স্কুলের সামনে গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) স্থাপন করতে হবে এবং এই রুটে মারছা বাসের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

সাতকানিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসাইন আল হিশাম মুহাম্মদ জাবেদ বলেন, বেপরোয়া গতির মারছা বাসের ধাক্কায় আমাদের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা স্কুলের সামনে গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটবে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।