নিজস্ব প্রতিবেদক : কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর-দুই নম্বর গেইট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। মিছিল থেকে বারবার উচ্চারিত হয় শুধু একটি স্লোগাণ। “বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই”।
রোববার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সমাবেশ চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ বিক্ষোভের ডাক দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এক ঘণ্টার ওই কর্মসূচিতে শত শত শিক্ষার্থী স্লোগান ও হাততালি দিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ও স্লোগানে স্লোগানে তাঁদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। প্ল্যাকার্ডগুলোয় লেখা হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘১০%-এর বেশি কোটা নয়’, ‘নিয়োগে অভিন্ন কাট মার্ক নিশ্চিত কর’। তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাই, সংস্কার চাই’। এছাড়া সমাবেশ থেকে ঢাকায় আন্দোলনকারীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইসলামী ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরজু বলেন, ‘৫৬ শতাংশ কোটা থাকায় সাধারণ চাকরি-প্রত্যাশীরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। এরপরও বিভিন্ন সময় কোটায় বিশেষ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যেমন: ৩২তম বিসিএস, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে বিশেষ কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার সাথে সমন্বয় করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে নিচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকা সত্ত্বেও তিনি এই কোটা চান না। এমনকি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় তিনি ওই কোটায় আবেদন করবেন না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্যই। আজ কোটার জন্য যা হচ্ছে, তা বঙ্গবন্ধুর বাংলায় হতে পারেনা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুব জুনাইদ জানান, কোটার প্রার্থী না পাওয়ায় ২৮তম বিসিএসে ৮১৩ জনের পদ শূন্য ছিল। একইভাবে ২৯তম-তে ৭৯২ জন, ৩০তম-তে ৭৮৪ জন, ৩১তম-তে ৭৭৩ জন, ৩৫তম-তে ৩৩৮ জনের পদ শূন্য ছিল। এই শূন্য পদ না রেখে সেখানে মেধা থেকে প্রার্থী নিয়োগের দাবি তাঁর।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তাঁদের একটি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর কোটা সংস্কারের জন্য একটি আবেদনপত্র দেবেন। যদি তাঁদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
একুশে/এএ