আবু আজাদ : চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আযোজিত ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ কনসার্টের ভিআইপি পাস দেড় থেকে দুইশ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে স্টেডিয়ামের ভিআইপি ফটকের সামনেই। পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই এসব বিকিকিনি চললেও তারা বলছেন ‘বিক্রি’ নয়, বিলি করা হচ্ছে এসব ‘ভিআইপি পাস’।
বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম গেইটে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি উঠতি যুবক ও কিশোরদের কাছে ভিআইপি পাস বিক্রি করছেন। প্রতিটি পাস মিলছে দেড়শ’ থেকে দুইশ’ টাকায়। কিন্তু হাতের দূরত্বে থেকে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
এসময় একুশে পত্রিকার পক্ষ থেকে টিকেট বিক্রির ছবি এবং ভিডি ধারণের চেষ্টা করা হলে এক পুলিশ কর্মকর্তা (নাম সম্ভবত মহিম) বাধা দেন এবং প্রতিবেদককে জিমনেশিয়ামের কাছে দায়িত্বরত অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফের কাছে নিয়ে যান।
এসময় প্রতিবেদকের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা টিকেট বিক্রির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করে দেন। এর প্রতিবাদ করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। কিন্তু তার আগেই খুলে নেন রনের ব্যাজ বা নেইমপ্লেট।
এসময় ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আবদুর রউফ টিকেট বিক্রির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ’এখানে ভিআইপি পাস বিক্রি নয় বিলি হচ্ছে। আপনি বললেও আমি বিশ্বাস করবো না এখানে কেউ টিকেট বিক্রি করছে।’
এদিকে, এ ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে মোবাইলে অবশিষ্ট থাকা একটি ছবি ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় ওই টিকেট-বিক্রেতা একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা। তার নাম ডা. আইয়ুব রানা। বর্তমানে তিনি হাটহাজারী উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। গতবছর হাটহাজারী উপজেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের একটি র্যালিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আইয়ুব রানার নেতৃত্ব দেয়ার একটি ছবি বৃহস্পতিবার একুশে পত্রিকার হস্তগত হয়। সেই আইয়ুব রানার সঙ্গে মিল রয়েছে এ আইয়ুব রানার।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মোবাইলে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না না, মিথ্যা কথা। আমি কোনো টিকেট-ফিকেট বিক্রির সঙ্গে নেই। তিনি স্টেডিয়ামেও যাননি, লালদিঘীতে অবস্থান করছেন দাবি করলেও এসময় তার প্রান্ত থেকে হইচই এবং গানের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
একুশে/এএ/এটি