চট্টগ্রাম : নগরের টেরিবাজারে শুল্ক ফাাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় কাপড়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েছে শুল্ক গোয়েন্দা, র্যাব ও কোস্ট গার্ডের যৌথবাহিনীকে। তবে সাময়িক উত্তেজনা আর বিক্ষোভের পরও ফাঁকা গুলি ছোড়ে আর অনমনীয় আচরণের ফলে অবৈধ কাপড় জব্দ করেই অভিযান শেষ করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয় চট্টগ্রামের কাপড়ের বৃহৎ এ পাইকারী কাপড়ের বাজারটিতে। অভিযানের জেরে প্রায় দু হাজার ছোট বড় দোকান নিয়ে গড়ে উঠা টেরিবাজারের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
টেরিবাজারের অন্যতম অভিজাত শপিংমল ‘মনেরেখ’, ‘স্টারপ্লাস’ ও ‘মেগামার্ট’ নামের তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি পোশাক জব্দ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘মনেরেখ’তে পোশাক জব্দ করার পর ওই দোকানের মালিক এর প্রতিবাদ জানান। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে মাইকে বাজারের সব দোকান বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর কয়েকশ দোকানের মালিক-কর্মচারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে মার্কেটে আসা গ্রাহকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বলেছেন, আমরা সবসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করে থাকি। কিন্তু আজ আগে থেকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করেই অভিযান শুরু হয়। তারা অভিযানের নামে পুরো টেরিবাজারে ঈদ বাজারে বিঘ্ন করায় শ্রমিক মালিক সকলে বিক্ষোভ করেছে।
তবে অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-৭ এর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান বলেছেন, অভিযানে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। কয়েকটি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই ভারতীয় পোশাক জব্দ করার পর ব্যবসায়ী সমিতির মাইকে ঘোষণা দিয়ে অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে বিক্ষোভ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ের পর অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।
তবে কী পরিমাণ কাপড় জব্দ করা হয়েছে সেটি তাৎক্ষণিক জানাতে পারেনি অভিযানিক দল।