চট্টগ্রাম : নির্বাচনী বহর কর্ণফুলী ক্রসিং হয়ে যাবে পটিয়া। তারপর রামু হয়ে কক্সবাজার। তাই পথে পথে সাজ সাজ রব। রাস্তার আশপাশে পছন্দের নেতাদের ছবি সম্মিলিত ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। কর্ণফুলীর ক্রসিং এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ।
আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোববার মানুষের পকেট হাতানোর ধান্ধায় নেমেছিল একদল যুবক। পরিচয়- তারা ছাত্রলীগ নেতা!
পথসভায় যোগ দিতে আসা মানুষদের বুকে পিন সেঁটে দিয়ে ৫০ থেকে ২শ’-৫শ’ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতে দেখা যায় তাদের। তারা যাকেই পেয়েছে বুকে লাগিয়ে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্মিলিত ছোট ছোট কাগজ।
কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই করেছে লাঞ্ছিত। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে আগে থেকেই পকেট থেকে টাকা বের করে রাখতেও দেখা যায় অনেককেই।
এমন ঘটনা সিনিয়র নেতাদের সামনে ঘটলেও সবাই এড়িয়ে গেছেন। দেখেও না দেখার ভান করেছেন কোনো কোনো নেতা।
বিরক্তি ও উষ্মা প্রকাশ করে এক ভুক্তভোগী একুশে পত্রিকাকে জানান, বিজয় দিবসের দিন রাস্তাঘাটে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শ এমন অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। কিন্তু আজ এই চাঁদাবাজি কেন- তার কারণ বুঝতে পারলাম না।
ছাত্রলীগ নেতাদের কি টাকার অভাব? তাছাড়া এভাবেই কেন রাস্তাঘাটে মানুষ ধরে ধরে টাকা হাতিয়ে নিতে হবে তাদের? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এটা কি একপ্রকার চাঁদাবাজি নয়- এমন প্রশ্নে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত শরীফ নামে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘চাঁদাবাজি হতে যাবে কেন। আমরা সবার বুকে জাতির পিতার ছবি লাগাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী ছবি পিন দিয়ে গেঁথে দিচ্ছি। এতে খুশি হয়ে যে যা দিয়েছে আমরা তাই নিয়েছি। জোর করা দূরের কথা, কাউকে উচ্চবাচ্য করিনি।’
ছবি : আকমাল হোসেন
একুশে/এসএইচ/এটি