চট্টগ্রাম : পুলিশের ধরপাকড় এড়াতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ তড়িঘড়ি করে এক ঘণ্টার মধ্যে শেষ করল চট্টগ্রাম নগর বিএনপি।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সাড়ে ৪টায় শেষ করে তারা। সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও কম ছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।
সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, সহ সভাপতি এমএ আজিজ, সহ সভাপতি নাজিমুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, এসকান্দর মির্জা, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মামলা-হামলা, গুপ্তহত্যা করে বিএনপিকে রোখা যাবে না। বিএনপির জনসমর্থনে সরকার ভীত, দিশেহারা। তাই আমাদেরকে লালদীঘিতে সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, গায়েবী মামলায় গত পঁচিশ দিনে সাড়ে চারহাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিকেও সরকার আসামী বানিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমানে আমেরিকায়। তাকেও গায়েবী মামলার আসামি করা হয়েছে।
শাহাদাত আরো বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। দেশে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলছিল। কিন্তু সরকার কোটা সংস্কার না করে কোটা বাতিল করে দিয়েছে। আবার বলছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যাপারে দেখা যাবে। এ কথা বলে সরকার আবার কী উসকানী দিতে চাইছেন!
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আমরা বার বার ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত ঐ হাসপাতালর একজন ডাক্তার দিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানো হয়নি। আমাদের প্রথম দাবি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে।
শাহাদাত বলেন, পুলিশের সাথে আমাদের শত্রুতা নাই। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি। জনগণের দেখভালের দায়িত্ব তাদের। তারা থানায় বসে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছ থেকে বিএনপি নেতা কর্মীদের ফোন নাম্বার নিয়ে ফোন করেন। এটা দুঃখ লাগে। আমাদেরও তো আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সম্পর্ক আছে; বলেন তিনি।
আগামী ১০ অক্টোবর লালদিঘী অথবা কাজীর দেউড়ী মোড়ে সমাবেশের ঘোষণা দেন ডা. শাহাদাত।
একুশে/এটি/এসসি
ছবি : আকমাল হোসেন