শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

যুবলীগ নেতাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তার লাঞ্ছিত করার অভিযোগ!

| প্রকাশিতঃ ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৯:৩১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন সুজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

চন্দনাইশের ধোপাছড়ি এলাকার সেগুন বাগানের গাছ কাটার অনুমতি (জোত পারমিট) প্রসঙ্গে রোববার দুপুরে তার কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে লাঞ্ছনার শিকার হন ওই যুবলীগ নেতা। এ সময় ওই কর্মকর্তা চেয়ারের দাপট দেখিয়ে গালিগালাজ করেন বলেও দাবি করেন যুবলীগ নেতা। পাশাপাশি তাকে বন বিভাগের কার্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধোপাছড়ির সেগুন বাগানটি একজনের ব্যক্তি মালিকানাধীন। বাগানের মালিকের অনুমতি নিয়ে যুবলীগ নেতার মামাতো ভাই পারভেজ গাছ কাটতে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ সে জায়গার মালিকানা দাবি করে। পরে ভূমি অফিস দুই দফায় জরিপ করে জানায় জায়গাটি বন বিভাগের নয়। এরপর বন বিভাগ নতুন করেন দাবি তুলে জায়গা তাদের না হলেও, সেখানের গাছগুলো তাদের। এরপর বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বন ও পরিবেশ মন্ত্রীকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি দেখার জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। এরপর আজ তার অফিসে যুবলীগ নেতা তার মামাতো ভাইসহ দেখা করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য গিয়াস উদ্দিন সুজন একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কক্ষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রবেশের সুযোগ পাই আমরা। সেখানে প্রবেশের পর তিনি আমাদের কাছে জানতে চান কেন এসেছি। তাকে সব বিষয় বলার পর উত্তেজিত হয়ে যান। এক পর্যায়ে তার কার্যালয়ের লোকজন ঢেকে নিয়ে আসেন। পরে আমরা বের হয়ে আসি। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, শুধু এ কারণে লাঞ্ছিত হবার পরে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। আমি মন্ত্রীকে এ ঘটনা জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ওই যুবলীগ নেতার মামাত ভাইয়ের কাছে ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করেনও বলে জানান তিনি।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, ৮০ লক্ষ টাকার গাছ আছে। বাগানটি নিতে হলে তাদেরকে ২৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিয়ে মন্ত্রীর মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেছি তাই তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করেও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি।

পরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জার ওমর ফারুক একুশে পত্রিকাকে বলেন, আজ দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা পরিচয়ে আরেক যুবকসহ আকস্মিক ডিএফও স্যারের কক্ষে ঢুকে পড়েন। এসময় তিনি স্যারকে কমান্ড করে কথা বলেন এবং তুমি সম্বোধন করেন। স্যার নিয়মের বাইরে কিছু করতে পারবেন না জানালে যুবলীগ নেতা ক্ষেপে যান এবং স্যারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ পরিস্থিতিতে অফিসের স্টাফরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবলীগ নেতাকে ঘিরে ফেলেন। এক পর্যায়ে আমরা কয়েকজন কর্ডন করে যুবলীগ নেতাকে নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ করে দিই।

একুশে/আরএইচ/এটি