
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গতকাল শুক্রবার ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ-গোলাগুলির ঘটনার রোমহর্ষক বর্ননা দিলেন সে সময় ঘটনাস্থলে আটকে পড়া চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি শোনালেন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার গল্প।
মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অনুমতি নিয়ে শুক্রবার বিকেলে উত্তর চাম্বলের সিকদার দোকান এলাকায় পথসভার আয়োজন করি। সেখানে যাওয়ার পথে চাম্বলের চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল প্রকাশ্যে আমার গাড়ি লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত গুলি বর্ষণ শুরু করে। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। হাত-পায়ে মারাত্মকভাবে জখম হয় অনেকে।
গুলি বর্ষণের ঘটনার পর হাজারো জনতা নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে তাকে পথসভায় নিয়ে যান বলেও জানান তিনি।
কাঁদো-কাঁদো গলায় মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বললেন, পৌনে ৫টার দিকে পথসভায় আমি বক্তব্য শুরু করলে আবার আকস্মিক গুলি বর্ষণ শুরু করে সন্ত্রাসীরা। তখন স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে আমাকে সরিয়ে নেয়। এ সময় আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হন।
তিনি জানালেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাঁশখালীর চাম্বল, জলদি, পাইরাং, জানিয়াঘাটা, চেচুরিয়া ও কালিপুর থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার বাড়ির দিকে রওনা দেয়। এক পর্যায়ে বাড়ি ঘেরাও করে প্রকাশ্যে গুলি করতে শুরু করে।
রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ি ঘেরাও করে দফায় দফায় গুলি চালাতে থাকে বলেও অভিযোগ করেন বাঁশখালীতে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। এ ঘটনার জন্য তিনি বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, জয় বাংলা বলে গুলি করা শুরু করে। পুলিশ তখন তাদের পাশেই ছিল। জনসমর্থন নেই বলেই সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে। মানুষকে গুলি করে, বোমা মেরে ভয় দেখাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।
এ ধরনের ঘটনা পাকিস্তানি আমলের বর্বরতাকে স্মরণ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
১৯২৯ সালে বৃহত্তর চট্টগ্রামে এমএলসি নির্বাচিত হন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাবা খান বাহাদুর বদি আহম্মদ চৌধুরী। ১৯৩৯ সালে পুনরায় জমিদারের প্রতিনিধি হিসেবে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের এমএলএ নির্বাচিত হন তিনি। শুক্রবার সংঘর্ষের ঘটনার পর প্রয়াত খান বাহাদুর বদি আহম্মদ চৌধুরীর বাড়িটিতে পুলিশ তল্লাশি চালায় বলেও জানান সাবেক সাংসদ ও মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
শুধুমাত্র লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন করার কারণে শুক্রবার রাতে বৈলছড়ি, চেচুরিয়া, বানিগ্রাম, কালীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ ৩০ থেকে ৪০ জনকে আটক করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাদেরকে বের করে দিয়েছে। আমাদেরকে মেরে আবার আমাদেরই বিরুদ্ধে উল্টো মামলা রেকর্ড করেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাঁশখালী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, আমরা কাউকে আটক করিনি। মামলাও হয়নি। তিনি (মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী) মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কালীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রমুখ।