চট্টগ্রাম: আলোচিত যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল কুদ্দুস বাপ্পি ওরফে কানা কুদ্দুস (৪২) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে তাকে মুক্তি দেয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহেদুল আলম বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের জামিন পেয়েছেন হত্যা মামলার আসামি আব্দুল কুদ্দুস বাপ্পি। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবদুল কাদের জামিননামা গ্রহণ করেছেন। এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে শেরশাহ সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটি এলাকায় নিজ বাসায় যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন নগর যুবলীগের নেতা মেহেদী হাসান ওরফে বাদল। ঘটনার দুইদিন পর মেহেদীর স্ত্রী মোবাশ্বেরা বেগম ২২জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন বায়েজিদ থানায়। গ্রেফতারের পর মেহেদীকে গুলি করা সাদ্দাম গত ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ঝলক রায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এতে সাদ্দাম বলেন, মেহেদীর প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা কুদ্দুছ ওরফে কানা কুদ্দুছ ওরফে বড় কুদ্দুছই পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করেছিলেন। গুলি করার জন্য ব্যবহৃত নাইন এম এম পিস্তলটিও কুদ্দুছ দিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের পাশেই কুদ্দুস অবস্থান করে আমাকে (সাদ্দাম) বলেছিলেন, মেহেদীকে গুলি না করলে সে আমাকে (সাদ্দাম) গুলি করে মারবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত মেহেদী হাসান বাদলের স্ত্রী মোবশ্বেরা বেগম বলেন, ‘কুদ্দুস বের হওয়ায় এলাকায় পোস্টার লাগাচ্ছেন তার অনুগত সন্ত্রাসীরা। মামলার অন্য আসামিরা এতদিন পালিয়ে থাকলেও কুদ্দুস জামিনে আসার খবরে সবাই এলাকায় এসে শোডাউন দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কুদ্দুস কারাগারে থাকায় বিচার পাওয়ার আশায় ছিলাম। এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
এর আগে ২১ জুন বিকেলে নগরীর বায়েজিদের শেরশাহ ‘সাংবাদিক পাহাড়’ নামে পরিচিত এলাকা থেকে আব্দুল কুদ্দুস বাপ্পি ওরফে কানা কুদ্দুসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানিয়েছিলেন, থানার সন্ত্রাসী তালিকায় কুদ্দুসের নাম ১০ নম্বর ক্রমিকে আছে।
*** চট্টগ্রামে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ‘কানা কুদ্দুস’ গ্রেফতার