
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হল। ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য এ হলটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর এ হলের ডাইনিং এ নেই কোনো বাবুর্চি! শুধু এ হলটিই নয়; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন চারটি আবাসিক হল ও পাঁচটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দিলেও একজন কর্মচারীর জন্যও অর্থ বরাদ্দ দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
এছাড়া অর্থের অভাবে বিভিন্ন দফতরে ৪৩০টি শূন্য পদ পূরণ করতে না পারায়, দফতরগুলো অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা৷ তাই বাধ্য হয়ে দৈনিক ভিত্তিতে ১২ জন কর্মচারী নিয়োগ দিতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।
যদিও নিয়ম অনুযায়ী মঞ্জুরি কমিশন যখন কোনো হল ও বিভাগ খোলার জন্য অনুমোদন দেয় তখন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্যও অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ হাসিনা হল ও পুলিশ সায়েন্স অ্যান্ড ক্রিমিনোলজি বিভাগ খোলার অনুমোদন দেয় ইউজিসি। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও জননেত্রী শেখ হাসিনা হল উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালের অক্টোবরে।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল উদ্বোধন হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। এছাড়া পুলিশ সায়েন্স অ্যান্ড ক্রিমিনোলজি বিভাগ চালু করা হয় ২০১৮ সালে। অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কোনোটার চারবছর আর কোনোটার একবছর পার হতে চললেও কর্মচারী সংকটে এসব হল চালু করা যায়নি। তবে বিভাগ চালু করা গেলেও কর্মচারী সংকটের কারণে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থমকে আছে।
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে সম্প্রতি দৈনিক ভিত্তিতে একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। কর্মকর্তা না থাকায় এ বিভাগটি অফিসিয়াল কার্যক্রম দেখভাল করতে হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান অনুষডের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ফোরকানকে। এছাড়া ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে কর্মকর্তা না থাকায় এ বিভাগটির অফিসিয়াল কার্যক্রম দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে দেখভাল করছেন রেজিস্ট্রার অফিসের তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সেল প্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম। এভাবে বেশিরভাগ নতুন বিভাগ অন্য কোনো দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে৷
এছাড়া যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে এক কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক মিডিয়া ল্যাব করা হলেও এ ল্যাবটি পরিচালনার জন্য নেই কোনো টেকনেশিয়ান অথবা কর্মকর্তা, কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কাছে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও একজন কর্মচারী পায়নি বিভাগটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র মতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, হল ও অনুষদে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদের সংখ্যা ৪৩০। এর মধ্যে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে ৬টি, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে ৭টি, চাকসুতে ৩টি, শামসুননাহার হলে ৩টি, প্রকৌশল দফতরে ২১টি, জীব বিজ্ঞান অনুষদে ৪টি, সকল অনুষদে প্রহরী পদে শূন্য পদ ৮টি, রসায়ন বিভাগে ৩টি, সমাজতত্ত্ব বিভাগে ৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে ৮টি, ফলিত পদার্থবিদ্যা ও ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩টি পদ খালি রয়েছে।
এছাড়া মাস্টার দা সূর্য সেন হলে ২৩টি, পদার্থবিদ্যা বিভাগে ২টি, এস্টেট শাখা-ব্যাচেলর ডরমেটরি ও কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প দফতরে ৩টি, হিসাব নিয়ামক দফতরে ৩টি, পরিবহন দফতরে ৬টি, আইন অনুষদে ১০টি, নিরাপত্তা দফতরে ১০টি, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ৩টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিংয়ারিং বিভাগে ৩টি, জীব বিজ্ঞান অনুষদে ৩টি, জীব বিজ্ঞান অনুষদ লাউঞ্জে ৪টি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ৬টি, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে ৪টিসহ আরও বিভিন্ন বিভাগ ও দফতরে পদ শূন্য রয়েছে।
২০১৭ সালের জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতর ইউজিসির কাছে এসব শূন্য পদ পূরণে অর্থ বরাদ্দের জন্য লিখিত আকারে আবেদন জানিয়ে আসছে। এরমধ্যে ২০১৭ সালের জুনে ইউজিসির কাছে একটি চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতর। সেখানে উল্লেখ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি অনুষদ, ৫২টি বিভাগ, ৭টি ইনস্টিটিউট, ৫টি গবেষণা কেন্দ্র ও ১২টি হল রয়েছে। এছাড়াও অধিভুক্ত ২২টি কলেজ, ১টি অনুষদ ও ১টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এসব নতন অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অফিস সমূহের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সহায়ক জনবল নিয়োগে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ওই বছরে কর্মচারী নিয়োগে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ইউজিসির কাছে আরও দুটি চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একজন কর্মচারীর জন্যও অর্থ বরাদ্দ দেয়নি ইউজিসি। এরফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নতুন বিভাগে প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নূরআহমেদ বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউ এবং হলে কর্মচারী নিয়োগে অর্থ বরাদ্দের জন্য ইউজিসির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর জন্যও অর্থ বরাদ্দ দেয়নি ইউজিসি।
এ বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে একুশে পত্রিকার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।