শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

মিরাজের রাজকীয় অভিষেক

| প্রকাশিতঃ ২০ অক্টোবর ২০১৬ | ৫:৫৩ অপরাহ্ন

mirazচট্টগ্রাম: আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন। এই কথাটির যেন সার্থক ব্যবহার করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টি-২০, ওয়ানডে বাদ রেখে সরাসরি ‘আসল ক্রিকেট’ হিসেবে খ্যাত টেস্টে জায়গা পেয়েছেন মিরাজ। দায়িত্ব পেয়ে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ফেললেন অভিষেকেই। ৬৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ইংলিশদের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি উইকেট। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন এই অলরাউন্ডার।

ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচেই হারার পর টস ভাগ্য এবারও সহায় হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অ্যালেস্টার কুক। কুকের ধারণা ছিল হয়তো সুযোগ লুফে নিতে পারবে তার দল। প্রথম সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে নতুন বল তুলে দেন মুশফিকুর রহিম। শুরু থেকেই উইকেটে গ্রিপ পান মিরাজ। টার্ন, বাউন্সে প্রথম ওভার থেকেই ভোগাতে থাকেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দ্রুতই দিয়ে ফেললেন এ তরুণ অফ স্পিনার।

কয়েকবার আউট হতে হতে বেঁচে যাওয়া ওপেনার ডাকেটকে শেষ পর্যন্ত মিরাজ ফেরান দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে। বোলিং ক্রিজের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল থেকে করা ডেলিভারি লেগ স্টাম্পে পিচ করে টার্ন করে ডাকেটের (১৪) ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত করে অফ স্টাম্পে। নিজের পরের ওভারেই মিরাজের দ্বিতীয় সাফল্য। রাউন্ড আর্ম ডেলিভারি স্কিড করে লেগে যায় গ্যারি ব্যালান্সের প্যাডে (১)। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ চেয়ে সফল হন অধিনায়ক মুশফিক। এই দুই আউটের মাঝে নিজের প্রথম ওভারেই সাফল্য পান সাকিব আল হাসান। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল সুইপ করতে গিয়ে বল গ্লাভসে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে; বিদায় নেন ইংলিশ অধিনায়ক কুক (৪)। ইংল্যান্ডের রান তখন ৩ উইকেটে ২১!

মিরাজ আর সাকিবের ঘুর্ণি জাদুতে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম সেশনে ইংল্যান্ডকে দারুণভাবে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর দাঁড়িয়ে যান রুট ও মইন আলী। দলীয় ৮৩ রানে ৪০ রান করে মিরাজের বলে সাব্বিরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রুট। এরপর ভয়ংকর হয়ে উঠা ইংলিশ উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্ট্রোকে ৫২ রানে বোল্ড আউট করেন ওই মিরাজই। পাঁচবার রিভিউয়ের পরও টিকে থাকা মইনকেও ফেরান মিরাজ। মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৭০ বলে ৬৮ রান করেন মইন আলী।

এদিকে টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট পেয়েছেন এ পর্যন্ত ছয় জন। কিন্তু তারা সবাই মিরাজের চেয়ে বয়সে বড়। অভিষেকের দিনে মিরাজের বয়স ১৮ বছর ৩৬১ দিন। এর আগে ২১ বছর ১০০ দিন বয়সে অভিষেকে সোহাগ গাজী ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। ২০১২ সালে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ৭৬ রানে। ২১ বছর ১৬৩ দিন বয়সে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মঞ্জুরুল ইসলাম। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়াওয়েতে ৮১ রানে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।