চট্টগ্রাম টেস্টে উইকেট প্রত্যাশার শতভাগ পূরণ করেছে। বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম তো পিচ কিউরেটরকে ধন্যবাদ অবধি দিয়েছেন। চট্টগ্রামের মতো ঢাকা টেস্টেও মিরপুরের উইকেটের সর্বোচ্চ ফায়দা লুটে নেওয়ার আশা মুশফিক বাহিনীর। টাইগারদের প্রত্যাশাটা পূরণ হবে তো?
চট্টগ্রাম টেস্টে সবচেয়ে পরিচিত ছিল উইকেট। পুরো বাংলাদেশ দল খুশি হয়েছে উইকেটে। অতিথি দল হলেও এমন উইকেটে খেলতে পারায় তৃপ্ত হয়েছে ইংল্যান্ড। এমন দারুণ একটা উইকেট বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্টের রোমাঞ্চ পাঠিয়ে দিয়েছিল বৃহস্পতির তুঙ্গে। ওই ম্যাচে সত্যিকারের ক্রিকেটের যে জয়টা হয়েছে তার সিংহভাগ কীর্তির দাবিদার ওই উইকেট।
চট্টগ্রামের উইকেট হয়ে উঠেছিল স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য, ব্যাটসম্যানদের বধ্যভূমি। তবে রান তোলা অসম্ভব ছিল না। এই উইকেটের সম্ভাব্য সেরা সুবিধাটা নেওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টেও চাহিদামাফিক উইকেট চান মুশফিকরা। হোম কন্ডিশনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সুবিধার সঙ্গে উপযুক্ত রণকৌশল। এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টেও দারুণ কিছু উপহার দিতে পারবে স্বাগতিকরা।
সিরিজের শেষ ম্যাচে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উইকেট। কাল ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকও উইকেটের ভাষা বোঝার চেষ্টা করছেন। এগারো বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের অনেক উইকেটের সঠিক পূর্বাভাস পেয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক। উইকেট দেখেছেন বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ব্যাটিং পরামর্শক থিলান সামারাবীরা। উইকেটের ভাষা বোঝার চেষ্টা করলেন নির্বাচক হাবিবুল বাসার সুমন, তামিম ইকবালও। পিচের চরিত্রটা বুঝতেই ম্যাচে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকা যায়। টিম বাংলাদেশ সেই চেষ্টাটাই করছে।
চট্টগ্রামে টার্ন উইকেটে পাঁচ দিনব্যাপী লড়াই হয়েছে। মিরপুরেও নাকি তেমন উইকেট চেয়েছেন বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। তেমন কিছু হলে ঢাকা টেস্টেও টিম কম্বিনেশনে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না। তামিম ইকবালের আত্মবিশ্বাস ঊর্ধ্বমুখী থাকাটাই তো স্বাভাবিক। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনের ফাঁকে টাইগার ওপেনার বলেছেন, ‘উইকেট নিয়ে নিশ্চয়ই পরিকল্পনা হচ্ছে। আমরা সবাই আলোচনা করব। আমার মনে হয়, আমাদের জন্য ভালো, দলের সঙ্গে বেশি মানানসই তেমন ধরনেরই উইকেট হবে।’
তবে উইকেটের সুবিধার জন্য চেয়ে থাকলে হবে না। মাঠে নিজেদের কাজটাও ঠিকঠাক করতে হবে। সতীর্থদের প্রতি তাই তামিমের সতর্কবার্তা, ‘উইকেট এমন একটা জিনিস যা আমাদের হাতে নেই। স্পিনিং উইকেট বানিয়ে দেখা গেল একটা বল নাও ঘুরতে পারে। আমার মনে হয়, আগে আমাদের কাজ ঠিকঠাক করতে হবে।’ তামিম আরো বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে উইকেট আমাদের পুরোপুরি ফেভারে ছিল। যেটা চেয়েছিলাম সেটা পেয়েও আমরা ম্যাচ হেরেছি। উইকেট মানানসই পেলে ভালো। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। ওই উইকেটকে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের চাওয়ামতো উইকেট পেয়ে গেলাম, কিন্তু সুবিধাটুকু নিতে পারলাম না, তাহলে তো আর উইকেটকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।’