চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে বৃষ্টির চোখ রাঙানি ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরও প্রকৃতির বিরূপ আচরণের আভাস দিয়েছিল। কিন্তু বল মাঠে গড়ানোর আগেই শঙ্কার কালো মেঘ উধাও। কাক্সিক্ষতভাবেই শেষ হয়েছে পাঁচদিনের রোমাঞ্চকর লড়াইটি। চট্টলার আকাশ ঘুড়ে ফিরে এবার মিরপুরের আকাশে জমা হয়েছে মেঘ। কাল একদফা ভারি বর্ষণও হয়ে গেল শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। আজ এখানেই আরেকটি ধ্রপদী লড়াইয়ের মঞ্চায়ন হবে। ক্রিকেটের আজন্ম শত্রুর খড়্গের কারণে পুরনো প্রশ্নটাই নতুন করে সামনে এসেছে। ঢাকা টেস্টের রোমাঞ্চে জল ঢেলে দেবে নাতো বৃষ্টি!
আজ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচে সম্ভাব্য আরেক প্রতিদ্বন্দ্বির নাম এই বৃষ্টি। কারণ এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে উইকেটের। বৃষ্টির কারণে উইকেটের চরিত্র বদলে যাওয়াটা যে নতুন কিছু নয়। কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দুই অধিনায়কের ভাবনাতে বিষয়টা সামনে চলে এসেছে। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা আশাবাদী-ম্যাচে বৃষ্টি কোনো বাগড়া দেবে না, চট্টগ্রামের মতো মিরপুর টেস্টটাও হয়ে উঠবে উপভোগ্য।
ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হার। টেস্ট সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য তাই দুঃস্মৃতির ক্ষতে প্রলেপ দেয়ার উপলক্ষ্য । প্রথম টেস্টে ২২ রানের হারটা অবশ্য টাইগারদের আশার প্রদীপটাকে নিভু নিভু করে দিয়েছে। তবে সিরিজ বাঁচানোর সুযোগ আছে। চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে যে অনুপ্রেরণা স্বাগতিকরা পেয়েছে সেটা এখন রীতিমত আত্মবিশ্বাসেই রূপ নিয়েছে। ড্র নয়, মুশফিকদের চোখ এখন জয়ের দিকেই।
১৫ মাস পর টেস্টে বাংলাদেশের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনই হয়েছে বাংলাদেশের। দীর্ঘদিনের অনভ্যস্ততা প্রথম ম্যাচ দিয়েই কাটিয়ে উঠেছে টাইগাররা। ইংলিশদের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন মুশফিকরা। এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণ স্পিন বিভাগের স্বভাবসুলভ নৈপুণ্য এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ানো। তামিম ইকবাল এবং ইমরুল কায়েস স্বাতিকদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানও দারুণ ছন্দে আছেন। ইংলিশ পেস আক্রমণ করতে প্রস্তুত এই মানিকজোড়। এ যুগলের দুর্দান্ত সূচনা ম্যাচে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখতে পারে।
তামিম-কায়েসরা যে পথ দেখিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো ব্যাটসম্যানরা সেই পদাঙ্কই অনুসরণ করেছেন। ব্যতিক্রম বোধহয় মুমিনুল হক সৌরভ। চট্টলা টেস্টে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। অথচ সাদা পোশাকের ক্রিকেটের তার ব্যাটের দিকেই তাকিয়েছিল টাইগারপ্রেমীরা। তবে অভিষেক ম্যাচে আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিয়েছেন সাব্বির রহমান রূম্মন। দ্বিতীয় ইনিংসে তার বীরোচিত ব্যাটিংকে ভিত বানিয়েই তো জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। অথচ অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার যে, চট্টগ্রাম টেস্ট সাব্বির খেলেছেন জ্বর এবং পেটে ব্যাথা নিয়ে। অসুস্থতা ঢাকায় সঙ্গী করে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে আজকের ম্যাচে তার মাঠে নামা নিয়েই তৈরি হয়েছিল সংশয়। সব শঙ্কা দূর করে ঠিকই ফিট হয়ে উঠেছেন তিনি, থাকছেন আজকের একাদশে।
চট্টগ্রামে দুই দলের মোট ৪ জন খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশেরই তিনজনের। সাব্বির ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়েছেন। বল হাতে বাজিমাত করে মেহেদী হাসান মিরাজ তো রীতিমত ইতিহাসই করে ফেলেছেন। তবে কামরুল হাসান রাব্বি পারেননি। কীভাবেই বা পারবেন প্রথম ম্যাচের উইকেট যে স্পিনারদের পাশে ছিল। অথচ স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠা ম্যাচে ইংলিশ পেসাররা কিন্তু ঠিকই আলো ছড়িয়েছেন। বেন স্টোক্স তো বলতে গেলে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্নটাকেই ধূসর করে দিয়েছেন। বল হাতে তার নৈপুণ্য ছাড়িয়ে গেছে প্রত্যাশাকে। ব্যাট হাতেও ম্যাচের সর্বোচ্চ ইনিংস দেখিয়েছে তার ব্যাট। ব্যাটে-বলে রাজসিক পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের পারফরম্যান্স ঢাকার ম্যাচেও বয়ে আনার ইচ্ছা এই অলরাউন্ডারের। জনি বেয়ারস্টোও ব্যাটটাকে আরো চওড়া করতে চান। অধিনায়ক কুক চাইছেন স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাসাতে পারেননি। এই ম্যাচে তাই জ্বলে ওঠার তাদিগ আছে তার ভেতর। ম্যাচে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছেন জাফর আনসারিও। ঢাকা টেস্ট দিয়েই তো ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। তাকে জায়গা দিতে গিয়ে সড়ে দাঁড়াতে হয়েছে গ্যারেথ ব্যাটিকে। দীর্ঘ এগারো বছর পর সাদা পোশাকে কী দুর্দান্তভাবেই না ফিরেছিলেন ব্যাটি। পুরস্কার হিসেবে তাকে ভারত সফরের দলেও রেখেছেন নির্বাচকরা। এই ম্যাচটা তার জন্য ‘বিশ্রাম’ বললেও ভুল হবে না।
সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক-উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার/শুভাগত হোম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম রাব্বি,
ইংল্যান্ড: অ্যালিস্টার কুক (অধিনায়ক), বেন ডাকেট, জো রুট, গ্যারি ব্যালান্স, বেন স্টোক্স, জনি বেয়ারস্টো (উইকেটরক্ষক), মঈন আলী, জাফর আনসারি, ক্রিস ওয়াক্স, আদিল রশিদ ও স্টিভেন ফিন।