শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

পুলিশ বিএনপির লোকদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে: রিজভী

| প্রকাশিতঃ ৩ নভেম্বর ২০১৬ | ২:০৪ অপরাহ্ন

rizviবিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এই অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, এটি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর শুধু অগণতান্ত্রিক আচরণই নয়, বরং এটি অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে দেশব্যাপী আধিপত্য বজায়ের আরেকটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত।

রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস সফল করতে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দিবস উপলক্ষে ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি জনসভা করতে চায়। বিএনপি আশা করছে, জনসভা সফল করার জন্য প্রশাসন যত শিগগির সম্ভব অনুমতি দেবে।

রিজভী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই,ÿক্ষমতাসীন মহলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গণতন্ত্রের পথচলায় সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধার সৃষ্টি করবে না। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৮ নভেম্বর শান্তিপূর্ণ জনসভা সফল করতে প্রশাসন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

১০ টাকায় চালের নামে তামাশা:
রিজভী অভিযোগ করেন, অর্ধাহার ও অনাহারে থাকা গরিব মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের নামে দেশজুড়ে গরিব মানুষের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পকেট ভারী করার জন্য পরিকল্পিত একটি সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। মন্ত্রী, এমপিসহ আওয়ামী লীগের রাঘব-বোয়ালদের মহা দুর্নীতি, জালিয়াতি, অনিয়ম ও লুটপাটের পর স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মোটাতাজা করতেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

রিজভী অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশের গরিব মানুষ যখন ১০ টাকা কেজির চাল পেতে চেষ্টা করছে, তখন তাদের ওপর নামছে ক্ষমতাসীনদের নির্যাতনের খড়্গ। গরিবের পেটে লাথি মেরে সরকারি গুদাম থেকে টনের পর টন চাল আত্মসাৎ করছে শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। সমাজের অসহায়, দুস্থ ও গরিবদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি চলে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের বিত্তবানদের পকেটে। দলীয় ক্যাডারদের ডিলার নিয়োগ করে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা-কর্মী, ইউপির চেয়ারম্যান, হঠাৎ ভুঁইফোড় বাড়ি-গাড়ি ও সম্পদের মালিকেরাই হয়ে যাচ্ছেন চালের মালিক। দেশজুড়েই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাল নিয়ে জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। চাল জালিয়াতির খবর এতটাই চাউর হয়েছে যে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ক্ষমতাসীনরা নিজ দলের সামান্য কিছু নেতা-কর্মীকে আটক করতে বাধ্য হয়েছে।