শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

হিলারি না ট্রাম্প?

| প্রকাশিতঃ ৮ নভেম্বর ২০১৬ | ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

trump-hillaryপ্রায় দেড় বছরের আলোচিত-সমালোচিত প্রচারণা শেষে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ মঙ্গলবার। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা থেকে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। নির্বাচনে কে প্রেসিডেন্ট হবেন সেদিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ভোটের মাধ্যমে মানুষের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাবেন মার্কিনীরা। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ধনকুবের ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাসে এই নির্বাচনকে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে জয়ের জন্য পেতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ২৭০টি। নির্বাচনে হিলারির দল ডেমোক্র্যাটের নিয়ন্ত্রণে আছে ২১টি এবং ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে আছে ১৮টি অঙ্গরাজ্য। শেষ মূহূর্তে ই-মেইল ইস্যুতে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সিদ্ধান্তে হিলারি শিবিরে স্বস্তি ফিরে এসেছে, ট্রাম্প মহলে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্পের নারী কেলেঙ্কারি আর বাজে মন্তব্যের ওপর ভরসা হিলারির। ট্রাম্পের ভরসা কেবল পরিবর্তনের ডাকের ওপর। তবে নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে সহায়তা করবে অভিবাসী ভোট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়াও মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ, বিভিন্ন রাজ্যের গভর্ণর ও স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে আজ ভোট শুরু হবে সকাল ৬ টা থেকে ৭ টার মধ্যে। ১১ ঘন্টা থেকে ১৩ ঘন্টা ভোট গ্রহণ চলবে। ১৯৪৮ সাল থেকে ঐতিহ্য অনুযায়ী নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিল নচ এবং হার্টস লোকেসন নামের দুটি ছোট গ্রামের বাসিন্দারা প্রথম ভোট দেবেন। ঘড়ির কাটা রাত ১২টা স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই বুথ খুলে দেওয়া হবে। এই ভোটকে মধ্যরাতের ভোটও বলা হয়। হিলারি ও ট্রাম্প ছাড়া আরো কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও তাদের নিয়ে প্রচারণাটা খুব বেশি নেই। ব্যালটে হিলারি, ট্রাম্প, লিবারটেরিয়ান পার্টির প্রার্থী গ্যারি জনসন এবং গ্রিন পার্টির জিল স্টেইনের নাম থাকবে।

তাদের সঙ্গে তাদের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নামও থাকবে। বাকি প্রার্থীদের নাম বিভিন্ন রাজ্যের ব্যালটে থাকবে। নির্বাচনে ভোট দিবেন ২০ থেকে ২২ কোটি ভোটার। হিলারির রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টিম কেইন এবং ও ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্স। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টরা আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হবে ৬ ডিসেম্বর। তবে বুধবারের মধ্যেই মিডিয়ার মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের নতুন বাসিন্দার খবর জানতে পারবেন বিশ্ববাসী।

আজ যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক ভোট শুরু হলেও তিন সপ্তাহ আগে থেকেই নিয়ম অনুযায়ী ৩৮টি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট শুরু হয়েছে। ডাকযোগেও ভোট দেওয়ার প্রচলন আছে। প্রায় চার কোটি আগাম ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে। এই ইলেক্টোরদের জনগনের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। দেশটিতে মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ২৭০টিতে জয় পেলেই তিনি হবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্তরসূরি এবং দেশটির ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। জনসংখ্যার হিসাবে ইলেক্টোরাল ভোট নির্ধারণ করা হয়। একটি রাজ্যে যিনি বেশি পপুলার ভোট পাবেন তিনি সব কয়টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন। কেবল ব্যতিক্রম মেইন ও নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্য ছাড়া। কোনো প্রার্থী একটি রাজ্যে ৫১ শতাংশ ভোট পেলে তিনি ওই রাজ্যের সবকয়টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন।