শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘অপরিণত নবজাতকের চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরী’

| প্রকাশিতঃ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৪:৪৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম: অপরিণত নবজাতকের চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি, আইএইচএল এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইমরান সেমিনার হলে ‘বাংলাদেশে রোটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটি স্ক্রীণিং ও চিকিৎসা সেবা বিস্তার’ শীর্ষক প্রকল্পের সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি, আইএইচএল এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, নবজাতক ভূমিষ্ঠের সঙ্গে সঙ্গেই প্রসূতি বিশেষজ্ঞের নজরে আসা শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর চক্ষু পরীক্ষা করাটাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে। রেটিনোপ্যাথি অব প্রি-ম্যাচুরিটি (আরওপি) সাধারণত গর্ভধারণের পর ৩৮ থেকে ৪১ সপ্তাহের মধ্যে শিশু জন্মগ্রহণ করার কথা; কিন্তু যেসব শিশু গর্ভধারণের পর ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে, তারাই অপরিণত নবজাতক। এসব নবজাতকের নানা রকম শারীরিক সমস্যা মধ্যে চোখের সমস্যা অন্যতম।

আন্তর্জাতিক এই চক্ষু বিশেষজ্ঞ বলেন, অপরিণত শিশুর চোখও অপরিণত থাকে বিধায় নানা রোগ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে চোখের রেটিনার যে বিশেষ পরিবর্তন ও সমস্যা দেখা দেয় তা-ই রেটিনোপ্যাথি অব প্রি-ম্যাচুরিটি(আরওপি)। এটা এমন রোগ, যা কিছু কিছু অপরিণত নবজাতকের রেটিনা ও এর রক্তনালিকে আক্রান্ত করে। যেসব অপরিণত নবজাতক জটিল সমস্যার জন্য নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকে, তাদের (আরওপি) এর লক্ষণ দেখা দেয় এবং তাদের রক্তনালি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। ফলে রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেটিনা ছিঁড়ে যায়। এ সময় চিকিৎসা না নিলে ছয় মাসের আগেই শিশু পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, সময়মতো অপরিণত নবজাতকের চক্ষু পরীক্ষা ও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে শিশুকে সম্ভাব্য অন্ধত্ব থেকে বাঁচানো সম্ভব।

পিটার গিলগ্যান ফাউন্ডেশনের সহায়তায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রাম ও রংপুরে পরিচালিত প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল অত্র অঞ্চলের অপরিণত নবজাতক শিশুদের চক্ষু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্ক্রীণিংসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র সহকারী সার্জেন্ট ডা. উন্মে সালমা আকবরের উপস্থাপনায় সেমিনারে অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ বলেন, যেসব নবজাতক ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে এবং যাদের ওজন দুই কেজির কম তাদের জন্মের তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেটিনা বিশেষজ্ঞ দ্বারা এনআইসিইউতে রেটিনা পরীক্ষা করাতে হবে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সামস্ মোহাম্মদ নোমানের উপস্থাপনায় অপরিণত শিশুর চোখের ব্যবস্থাপনার উপর প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহন নেন, চমেক এর অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ শামীম হাসান, চমেক এর মহিলা ও ধাত্রী বিভাগের বিভাগী প্রধান প্রফেসর ডা. শাহানারা চৌধুরী,আইএইচএল এর কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমদ, চমেক এর উপধ্যাক্ষ প্রফেসর ডা. নাছির উদ্দিন মাহমুদ, চমেক এর হেড অব নিউনেটালজী প্রফেসর ডা. জগদীশ চন্দ্র দাশ, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের সহকারী কনসালটেন্ট ডা. সাহেলা শারমিন, অরবিসের সিনিয়র প্রোগাম ম্যানেজার ইকবাল হোসেন, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরপারবেজ হোসেন প্রমূখ।